গ্রামবাংলার মানুষের চিরায়ত ঐতিহ্য হিসেবে কুয়াশাসিক্ত শীতেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যায় আর শহুরে সমাজে সেই ঐতিহ্যের রীতিনীতিকে কিছুটা স্মরণ করিয়ে দিতে রংপুর চেম্বার অব কমার্স এণ্ড ইন্ডাষ্ট্রি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত আরসিসিআই পাবলিক স্কুল এণ্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা দিনব্যাপী এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করে।

সোমবার স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর (অব) মুহাম্মদ আবদুল জলিল এর সভাপতিত্বে দিনব্যাপী এ পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কে,এম, তারিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরসিসিআই পাবলিক স্কুল এণ্ড কলেজের সভাপতি ও রংপুর চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু ও চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজতোবা হোসেন রিপন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কে,এম, তারিকুল ইসলাম বলেন, পিঠা উৎসব বাঙালির ঐতিহ্য। পিঠা উৎসবের মাধ্যমে বাঙালি ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে হবে। বাঙালির অনেক উৎসবের মতোই পিঠা উৎসব সুপ্রাচীন কালের। নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পিঠার পরিচিতি তুলে ধরতে এ উৎসব সুদুরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। কেননা শীতের সময়ে এখন আর বাড়িতে বেড়াতে আসা অতিথিদের পিঠা দিয়ে আপ্যায়িত করা হয় না। এর ফলে দিনে দিনে পরিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

দিনব্যাপী পিঠা উৎসবে নানা পিঠার সমাহার নিয়ে হাজির ছিল শিক্ষার্থীরা। স্টলগুলো ঘুরে দেখা গেল বাঙালি ঐতিহ্যের নানা রকম ভাপা, মুকশুলি, মসুর পাকন, চিকেন পুলি,নারিকেল দুধ পুলি, নারিকেল পুলি, গোলাপ ফুল পিঠা, আলুর পাকন পিঠা, বিবিআনা পিঠা, নারিকেল বিস্কুট পিঠা, বো টাই পিঠা, তেল পিঠা, ডিম সুন্দরী পাটিসাপটা, পাটিসাপটা, আনারকলি, দুধসাগর এবং চিতই পিঠার সমাহার।

উৎসবে শিক্ষার্থীদের ১৭টি স্টলের পিঠার সমাহার যেমন ঠিক তেমনি স্টলের নামের দেখা গেল বৈচিত্র্য। অভিভাবক এর সঙ্গে দলে দলে শিক্ষার্থীরা আসে আরসিসিআই পাবলিক স্কুল এণ্ড কলেজের পিঠা উৎসবে। উৎসবে আসা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। পিঠা উৎসবে প্রচুর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সমাগমে উৎসব প্রাণচাঞ্চল্য পায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য