কুড়িগ্রামের উলিপুর সরকারি খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এতে করে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্ছিত হচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাদু কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রকৃত তাদের কৃষকরা কষ্টার্জিত ফসল সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে পারছেন না। কৃষকের পরিবর্তে গুদামে ধান দিচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা। ফলে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে।

সরেজমিনে গতকাল বিকেলে উলিপুর খাদ্য গুদামে গিয়ে দেখা যায় কয়েকটি ট্রলি বোঝাই ধান এনে গুদামে ঢোকানো হচ্ছে। সে সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়ির লোকজন সটকে পড়েন। সেখানে কোনো কৃষককে দেখা যায়নি। তবে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন লোক এ ধরনের কাজ আর কখনও করবেন না বলে ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকরা যেন ভালো মুনাফায় গুদামে ধান দিতে পারেন সে লক্ষে সারাদেশের ন্যায় উলিপুরেও খাদ্য অধিদপ্তর ইউনিয়ন পর্যায়ে লটারির ব্যবস্থা করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট মহলের কারণে কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন না।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লটারীতে বিজয়ী কৃষকদের কৃর্ষি কার্ড এক থেকে দুই হাজার টাকায় কিনে নিচ্ছেন মহলটি। এতে সহযোগিতা করছেন খাদ্য বিভাগের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।

উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ২০ নভেম্বর থেকে আমন ধান সংগ্রহ শুরু হলেও এ উপজেলায় শুরু হয় ১৯ ডিসেম্বর। প্রতি কেজি আমন ধান ২৬ টাকা মূল্যে সরকারি ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫শ ৬৪ মেঃ টন। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৩৯৯ মেঃ টন।

খাদ্য গুদামের একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী মহলের আর্শিবাদপুষ্ট ও খাদ্য বিভাগের কিছু অসাদু কর্মকর্তার যোগসাজশে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রলি বোঝাই করে ধান এনে গুদামে ঢুকাচ্ছিলেন।

খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আমজাদ হোসেন বলেন, আমি উপজেলা পরিষদে থাকাকালীন কয়েকটি ট্রলি ভূলবশত গুদামে ঢুকে পড়ছিলেন। পরে খবর পেয়ে গুদামে গিয়ে ট্রলিগুলো বের করে দিয়েছি। তবে ধানগুলো কার সে ব্যাপারে কিছু জানতে পারিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হেমন্ত কুমার বর্মনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে এমনকি তার মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাদের বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য খাদ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য