যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগকে মার্কিন ‘গণতন্ত্রের ওপর বিপজ্জনক’ হামলা বলে মন্তব্য করেছে মিঃ ট্রাম্পের লিগ্যাল টিম বা আইনজীবী দল।

এই প্রথমবারের মত মিঃ ট্রাম্পের আইনি সহায়তা দল আনুষ্ঠানিকভাবে কোন মন্তব্য জানালো।

এক বিবৃতিতে আইনজীবী দল জানিয়েছে, ইমপিচমেন্ট আর্টিকেলসমূহ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার একটি ‘নির্লজ্জ’ চেষ্টা এটি।

মঙ্গলবার শুরু হবে ইমপিচমেন্টের বিচার প্রক্রিয়া, আর তার আগে ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে ইমপিচমেন্টের কাগজপত্র বা সংক্ষিপ্ত বিবরণী জমা দেয়ার পর মিঃ ট্রাম্পের আইনজীবী দল এই মন্তব্য করলো।

মিঃ ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট যিনি ইমপিটমেন্ট বা অভিশংসনের মুখে পড়তে যাচ্ছেন।

তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নিজের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে মিঃ ট্রাম্প সেগুলোকে ‘ধাপ্পাবাজি’ বলে অভিহিত করেছেন।

গত মাসে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে অভিশংসিত হন প্রেসিডেন্ট মিঃ ট্রাম্প।

তবে, মিঃ ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে হবে কিনা সে বিষয়ে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সেনেটে।

ইমপিচমেন্ট ট্রায়ালে হাজির করার জন্য প্রেসিডেন্টের আইনজীবী দল ছয় পৃষ্ঠার বিশাল এক সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করেছে।

হোয়াইট হাউজ কাউন্সেল প্যাট সিপোলোনি এবং মিঃ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী জে সেকুলোর নেতৃত্বে প্রেসিডেন্টের আইনজীবী দল জানিয়েছে, ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবকে সাংবিধানিক এবং পদ্ধতিগত দুইভাবেই মোকাবেলা করা হবে।

তাদের বক্তব্য প্রেসিডেন্ট ভুল কিছু করেননি এবং তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

ডেমোক্র্যাট দলের উপস্থাপিত ইমপিচমেন্ট আর্টিকেলকে “আমেরিকার জনগণের পছন্দের প্রেসিডেন্ট বেছে নেয়ার অধিকারের ওপর বিপজ্জনক হামলা” হিসেবে অভিহিত করেছে এই দল।

একইসঙ্গে একে ২০২০ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের শামিল বলেও মনে করে তারা।

মিঃ ট্রাম্প এবং তার আইনজীবী দলের অভিযোগ, ইমপিচমেন্ট চার্জ প্রেসিডেন্টের ‘দোষ’ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।

মাত্র একদিন আগে মিঃ ট্রাম্প তার আইনি দলে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অভিশংসন তদন্তে অংশ নেয়া বিশেষ কৌঁসুলি কেন স্টার ও রবার্ট রে’কে নিয়োগ দিয়েছেন।

ইমপিচমেন্ট ট্রায়ালে হাজির করার জন্য ডেমোক্র্যাটসরা ১১ পৃষ্ঠার যুক্তিতর্কের সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে।

তাদের বক্তব্য, “আমেরিকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নিরাপত্তার ওপর আরো গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির হাত থেকে পরিত্রাণ” পাবার জন্য মিঃ ট্রাম্পকে অভিশংসন করা উচিত।

“মিঃ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খুব সাধারণ, এবং তথ্য প্রমাণ অকাট্য। এখন একমাত্র প্রশ্ন হলো সেনেটের সদস্যদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব তারা যথাযথভাবে পালন করবেন কিনা।”

শনিবারে ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্যরা যে অভিশংসনের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তাতে মিঃ ট্রাম্পকে কেন অভিশংসিত করা উচিত সে সম্পর্কে তাদের বক্তব্য, ‘বিশ্বস্ততার সাথে আইন কার্যকর এবং নিজের দায়িত্ব পালনে প্রেসিডেন্ট যে শপথ নিয়েছেন, তা তিনি ভঙ্গ করেছেন’ এবং তিনি ‘জনগণের বিশ্বাস ভেঙ্গেছেন’।

একইসঙ্গে প্রেসিডেন্টের আচরণকে দেশটির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতির ‘সবচেয়ে খারাপ দুঃস্বপ্ন’ বলে মন্তব্য করেছে তারা।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মিঃ ট্রাম্পের ফাঁস হওয়া ফোনালাপে দেখা যায়, সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে রীতিমতো চাপ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট।

ওই ফোনালাপের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি সামনে আসে।

এরপর তাকে ইমপিচ করার উদ্যোগ নেয় ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ।

গত মাসে সেখানে অভিশংসিত হওয়ার পর এবার সেনেটে চূড়ান্ত বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন মিঃ ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত কোন প্রেসিডেন্টকে ইমপিচমেন্টের কারণে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ যে প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তিনি বিল ক্লিনটন, সেটা ১৯৯৮ সালের ঘটনা।

এর আগে এরকম ঘটনা ঘটেছিল ১৮৬৮ সালে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এন্ড্রু জনসনের বিরুদ্ধেও ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

কিন্তু মিঃ ক্লিনটন কিম্বা মিঃ জনসন তাদের কাউকেই সেনেটে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য