দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় আগাম আলু চাষ করে কাঙ্খিত মূল্য পেয়ে আলু চাষীর মুখে হাসি ফুটেছে। গত ৩ বছরের তুলনায় এবছর আলুর মূল্য বেশি পাচ্ছেন উপজেলার আলু চাষীরা।

১৬ জানুয়ারী’২০ কাহারোল হাটে দেশী জাতের আলু পাইকারী প্রতিমন ১১শ টাকা, গেনুলা ও কাঠিলাল জাতের আলু প্রতিমন ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা মূল্যে বিক্রি হয়েছে। গতবছর এ সময়ে কাহারোলে প্রতিটি পাইকারী বাজারে দেশী আলুর মূল্য ছিল সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা এবং কাটিলাল আলু সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা মূল্যে বিক্রি হয়েছিল।

এবার দ্বিগুণ মূল্য পেয়েছে আলু চাষীরা। কাহারোল উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর বর্ষাকালে সবজি ক্ষেত নষ্ট হওযায় বাজারে আমদানি ছিল তুলনামুলক ভাবে কম। ফলে সবজির দাম চড়াও ছিল। এ কারণে লাভের আশায় আগাম আলু চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

এবার মৌসুমের শুরু থেকেই আলুর মূল্য চড়াও। ১ মাস ধরে কাহারোল হাটে নতুন আলুর প্রচুর আমদানী হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আলু মৌসুমের শুরুতে প্রতিমন নতুন আলু পাইকারী বাজারে বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার টাকা মন পর্যন্ত। হাটে আলুর আমদানী বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্য কমতে শুরু করে।

কাহারোলে চাষীরা আগাম জাতের আলুর মূল্য পেয়ে মুখে হাঁসি -Dinajpur, Dinajpur news, দিনাজপুর, দিনাজপুর নিউজ, বাংলা, বাংলানিউজ bangle, banglanews, Rangpur District, Kurigram District, Panchagarh District, Nilphamari District, Gaibandha District, Thakurgaon District, Lalmonirhat District, রংপুর জেলা, কুড়িগ্রাম জেলা, পঞ্চগড় জেলা, নীলফামারী জেলা, গাইবান্ধা জেলা, ঠাকুরগাঁও জেলা, লালমনিরহাট জেলা Bangladesh, বাংলাদেশ I+উপজেলার আলু চাষীরা বলেন ক্ষেতে আলু বীজ রোপনের পর বৃষ্টিসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। অন্যবছরের তুলনায় কীটনাশক ও ছত্রানাশক কম প্রয়োগ করতে হয়েছে আলু চাষের ক্ষেত্রে। এতে আলু উৎপাদন খরচ কমও হয়েছে বটে। অপরদিকে এবার আলুর গায়ে কোন রকম দাগ নেই, বাজারে আলুর চাহিদা রয়েছে প্রচুর। কাহারোল হাটে আলু বিক্রেতা সুরেশ চন্দ্র রায় জানান, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে খরচ হয়েছে ১৬ হাজার টাকার মত। এবার এক বিঘার আলু বিক্রি করছি ৫০-৬০ হাজার টাকার মত। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ৪০ হাজার টাকার মত লাভও হয়েছে।

ক্রেতা বিক্রিতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান বাজারে আলুর চাহিদা রয়েছে প্রচুর। বাজারে সবজির সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে, সবজির জোগানে ঘাটতির কারণে চাহিদা বেড়েছে আলুর। ফলে আলুর বাজারে এবার চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে। আলুর পাইকারি ব্যাপারি রবিউল ইসলাম বলেন, কাহারোলে চাষ হওয়া আগাম জাতের আলু রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আমদানি করা হয়েছে।

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবু জাফর মোঃ সাদেক জানান, চলতি মৌসুমে অত্র উপজেলায় ২ হাজার ৫’শ ৫০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু জমিতে আগাম জাতের আলু চাষীরা তুলে বাজারে বিক্রি করেছেন। আগাম আলু চাষ খুব লাভজনক ফসল বটে। প্রত্যাশিত ফলন ও মূল্য পেয়ে হাসি ফুটতে দেখা যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য