দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের এফপিএবি মিলনায়তনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী স্ট্যাডি ম্যাপিং ও মানবাধিকার বিষয়ক এক ওরিয়েন্টেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর কুমার রায় বলেছেন, জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র ও বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সব মানুষ সমান। এই ঘোষণাপত্র ও সংবিধানে নাগরিকদের জন্য যে অধিকারগুলো দেয়া হয়েছে সেগুলো আদায় করতে হলে ক্ষুদ্র জাতিসত্বার মানুষকে সংঘবদ্ধ হতে হবে এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে।

১৫ জানুয়ারি বুধবার ইউএনডিপির অর্থায়নে প্রিপ ট্রাস্ট এর সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবক প্রিপ ট্রাস্ট, দিনাজপুর এর উদ্যোগে এফপিএবি মিলনায়তনে এই ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর কুমার রায় প্রধান অতিথি ছিলেন। দিনাজপুর সংগীত কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও আদিবাসী নেতা অ্যাডভোকেট গনেশ সরেনের সভাপতিত্বে অনুিষ্ঠত ওরিয়েন্টেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের দর্শণ বিবাগের সহযোগি অধ্যাপক ও গবেষক ড. মাসুদুল হক এবং দৈনিক আজকের দেশবার্তার সিনিয়র রিপোর্টার ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক আজহারুল আজাদ জুয়েল।

ওরিয়েন্টেশনের রিসোর্স পার্সন ও সঞ্চালক ছিলেন প্রিপ ট্রাস্ট এর ডেপুটি ডাইরেক্টর শেফালী বেগম। ওরিয়েন্টেশনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মানুষের ধর্মীয়, সামাজিক, মানবিক, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, কর্মসংসংস্থান, ভূমি সংক্রান্ত সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন শিতল মার্ডি, রুবেল, লাবু, ঈশ^র টুডু, মিথিলা, কোহিনুর বেগম, আদুরি মার্ডিসহ আদিবাসী নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি কিশোর কুমার রায় তার বক্তব্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পরমর্শ দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মাসুদুল হক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সমাজ থেকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, নিজেদের চিকিৎসক হলে তাদের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ত্বরাম্বিত হবে। নিজেদের ইঞিইনয়ার থাকলে সঠিক ডেভলেপমেন্ট হবে।

আজহারুল আজাদ জুয়েল বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তনর জন্য সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চায় কেউ যেন পেছনে পড়ে না থাকে। কিন্তু যারা পেছন পড়ে আছেন তারা যদি নিজেরাই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে না চান, তাহলে তারা কখনোই মূলধারা জনগোষ্ঠীর সমান্তরালে আসতে পারবে না।

সভাপতির বক্তব্যে গনেশ সরেন বলেন, আদিবাসীদের সম্পদ বলতে শুধুমাত্র জমি ও কায়িক শ্রম ছিল। কিন্তু গত কয়েক দশকে আদিবসীদের ভূমির সিংহভাগ বেদখল হয়ে গেলেও সেগুলো উদ্ধারে সরকারের কোন পদক্ষেপ দেখা যায় নাই।

গনেশ সরেন তার বক্তব্যে সমতল ভূমির আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবী জানান। এই ওরিয়েন্টেশনে দিনাজপুর সদর, বিরল, বীরগঞ্জ, ফুলবাড়ি, বিরামপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার আদিবাসী যুবক, ছত্র-ছাত্রীসহ নেতৃবন্দ এবং সাংবাদিক ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য