আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যৌতুকের দাবীতে এক পাষন্ড স্বামীর বেধরক মারপিটে গুরুতর আহত ২ সন্তানের জননী স্ত্রী তৃপ্তি বেগম (৩০) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার বিকেলে উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোপিনাথপুর গ্রামে।

ভূক্তভোগি ও সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের সাবদিন কয়ারপাড়া গ্রামের মৃত হযরত আলী মাস্টারের মেয়ে তৃপ্তির সাথে পূর্ব গোপিনাথপুর গ্রামের মো. মোসলেম উদ্দিনের ছেলে সাইফুলের বিয়ে হয় বিগত ২০০৯ সালে। মেয়ে তৃপ্তির সুখের কথা চিন্তা করে বিয়ের সময় ছাড়াও বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে যৌতুক হিসেবে সাইফুলকে ২ লক্ষাধিক টাকা প্রদান করা হয়।

প্রথমতঃ সাইফুল এবং তৃপ্তির দাম্পত্যজীবন বেশ সুখশান্তিতেই অতিবাহিত হচ্ছিল। সময়ের ব্যবধানে যৌতুকলোভী সাইফুল বারংবার দফায়-দফায় আরোও যৌতুকের দাবীতে তৃপ্তির প্রতি অমানুষিক শারিরীক নির্যাতন শুরু করে। তৃপ্তি ও সাইফুলের বিগত ১১ বছরের দাম্পত্যজীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম হয়। তবুও তৃপ্তির প্রতি নির্যাতন থাকে অব্যাহত। একপর্যায় আবারো অসহনীয় মারপিট করায় সে দফায় নিজের প্রাণ রক্ষায় তৃপ্তি স্বামী-সন্তান ছেড়ে বাবার বাড়ীতে চলে আসেন।

এমন পরিস্থিতিতে অতিষ্ট তৃপ্তির অভিভাবক মহল বিষয়টি সুরহাকল্পে ২০১৭ সালে হরিণাবাড়ী ফাঁড়ি পুলিশ বরাবর হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত অভিযোগ করেন।সে দফায় পুলিশ ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবেনা মর্মে মুসলেকা দিয়ে সাইফুল স্ত্রী তৃপ্তিকে ঘরে তুলে নেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বীকারোক্তিমূলক মুসলেকার কথা বেমালুম ভুলে যৌতুকের দাবীতে আবারো তৃপ্তির প্রতি নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতন সইতে না পেরে তৃপ্তির পরিবার গত ২০১৭ সালের দিকে আবারো সাইফুল পরিবারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদফায় ফাঁড়ি ইনচার্জের উদ্যোগে মসজিদ ইমাম ও স্কুল শিক্ষক ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিষয়টি চুড়ান্ত নিষ্পত্তি কল্পে শালিসি বৈঠক বসে। বৈঠকে অতীতের সবকিছু ভুলে পরবর্তিতে এমন ঘটনা আর ঘটবেনা মর্মে স্বামী সাইফুলসহ তার পরিবারের স্বীকারোক্তিতে গৃহবধূ তৃপ্তিকে আবারো ঘরে তুলে নেয়া হয়। কিন্তু পাষন্ড সাইফুল ও তার পরিবারের দেয়া শর্ত এবং স্বীকারোক্তি ভুলে যৌতুকের দাবীতে তৃপ্তির প্রতি নির্যাতন শুরু করে।

গত সোমবার ১৩ জানুয়ারি বিকেলে তৃপ্তিকে বেধরক মারপিট করে গুরুতর আহত করে। এসময় পাশের বাড়ির জনৈক মহিলা কুলসুমসহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহত তৃপ্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্ত্তি করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গৃহবধূ তৃপ্তির অভিভাবক মহল এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানা গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য