যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় বেসামরিকদের জন্য সেনামুক্ত নিরাপদ অঞ্চল ‘বাফার জোন’ তৈরির ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছে তুরস্ক ও রাশিয়া। বুধার তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার বলেন, তারা আলোচনা করছেন যেন বাস্তুহারা সিরীয়রা এই শীতেই সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

গত ৯ অক্টোবর সিরিয়ার তুর্কি সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চল থেকে কুর্দি বিদ্রোহীদের উৎখাতে অভিযান শুরু করে তুরস্ক। তার আগ মুহূর্তে ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। বেশ কয়েক দিনের অভিযানের পর ওই অঞ্চল থেকে কুর্দি বিদ্রোহীদের সরিয়ে দিতে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সঙ্গে আঙ্কারা পৃথক দুটি চুক্তি করে। এর আগে ২০১৮ সালের মার্চে কুর্দি অধ্যুষিত আফরিন শহর দখলে নিতে সিরীয় বিদ্রোহীদের সহায়তা দেয় তুরস্ক। ওই সময়ই উত্তর সিরিয়ার অভ্যন্তরে একটি বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

আকার দাবি করেন, ১২ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতির চুক্তি করার পরও সিরীয় সরকারি বাহিনী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্রোহীরা জানায়, বুধবার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব শহরে রুশ জেট বিমানকে হামলা চালাতে দেখা গেছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর প্রথম।

মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান জানান, তুরস্কে আশ্রয় নিতে যাওয়া ৪ লাখ বাস্তুহারা মানুষকে ঠেকাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তিনি। রাশিয়া জানায়, সিরীয়রা হামলা থেকে বাঁচতে আসাদ বাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যেতে পারে। কিন্তু তুরস্কের দাবি, সেটা কোনও সমাধান নয়।

আকার বলেন, ‘আমাদের ইদলিবের যে বন্ধুরা শরণার্থী হয়ে গেছে তারা কোনও সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যেতে চায় না। আমরা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করছি যেন এই শীতেই আমরা বাস্তুহারাদের একটি নিরাপদ অঞ্চল নিশ্চিত করতে পারি। এর আগে গত সোমবার মস্কোতে আলোচনায় বসেছিলো সিরিয়া ও তুরস্কের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য