ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে তেহরানে বিধ্বস্ত ইউক্রেইনীয় উড়োজাহাজের ব্ল্যাক বক্স চেয়েছে ইউক্রেইনের প্রসিকিউটর দপ্তর ও দেশটির সিকিউরিটি সার্ভিস।

বুধবার ইউক্রেইনের প্রসিকিউটর দপ্তর একথা জানিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ইউক্রেইনের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিগগিরই ইরানের এক ঊর্ধ্বতন তদন্তকারী কর্মকর্তা ইউক্রেইনে আসবেন বলে আশা করছেন তারা।

ইউক্রেইনের একটি গবেষণাগার ব্ল্যাক বক্স নিয়ে কাজ করার উপযোগী কি না, তা নির্ধারণ করার জন্য ওই ইরানি কর্মকর্তার আসার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত বুধবার ভোরে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় ইউক্রেইন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পিএস৭৫২ বিধ্বস্ত হয়। এতে উড়োজাহাজটির ১৭৬ জন আরোহীর সবাই নিহত হন।

প্রথমে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ইউক্রেইনের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানায় তেহরান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ কয়েকটি পক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করে। ইরান প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে তাদের এয়ার ডিফেন্সের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

‘ভুল করে’ উড়োজাহাজটি ভূপাতিতের কথা স্বীকার করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের স্থানীয় সময় ভোররাতে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেমানি নিহত হওয়ার পর ওই অঞ্চলে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বুধবার ভোররাতে ইরাকের দুটি সামরিক ঘাঁটির মার্কিন অবস্থানগুলোতে ডজনেরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

এর ঘণ্টা দুয়েক পর তেহারানের কাছে ইউক্রেইনীয় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় উড়োজাহাজটিতে থাকা বহু ইরানি ও কানাডীয়র পাশাপাশি ইউক্রেইন, যুক্তরাজ্য, আফগানিস্তান ও জার্মানির বেশ কয়েকজন নাগরিক নিহত হন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য