আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় রাফিকুল ইসলাম (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ তুলে তাকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে ওই কিশোরের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল রবিবার (১২ জানুয়ারি) রাতে সুন্দরগঞ্জ থানায় ১৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই দুইজনকে আটক করেছে।

আটকৃতরা হল, উপজেলার উত্তর ধুমাইটারী গ্রামের মৃত আব্বাস আলী চেলে আইজল মিয়া (৫০) ও একই গ্রামের বাবলু মিয়ার চেলে রানা মিয়া।

নির্যাতিত রাফিকুল ইসলাম উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে ও ধুমাইটারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সে বর্তমানে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম কবির মুকুল মুঠোফোনে জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যা রাতে একই গ্রামের নজরুল ইসলাম নজু মিয়ার একটি গরু চুরি হয়। ওই রাতেই সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন চুরি যাওয়া গরুটিসহ রাফিকুলকে উপজেলার বেলকা হাট থেকে আটক করে নিয়ে আসে। পরে স্থানীয় সালিশ বৈঠকে বিষয়টি সমাধান হয়। তাই আর তাকে থানায় সোর্পদ না করে তার পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

কিন্তু নির্যাতিত কিশোর রাফিকুলের বড় ভাই রফিকুল ইসলামের দাবি, রাফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) রাতে কয়েকজন প্রতিবেশী গরু চুরির মিথ্যা অভিযোগ করে এবং রাফিকুলের নিজ বাড়ির শয়ন ঘর থেকে প্রতিবেশী ফজলু, ইয়াজল ও নাজমুল নামে তিন যুবক এসে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে ফজলুর বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে সেখানে রাতভর মারপিট করে। একপর্যায়ে তার পরিবারের কাছে তারা ১০হাজার টাকা দাবি করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও তাকে ছেড়ে না দিয়ে পরদিন শনিবার সকালে তাকে একই গ্রামের আফসার আলী প্রামানিকের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে গ্রামের শত শত মানুষের সামনে রাফিকুলের হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে উল্টো করে তার পায়ের পাতায় লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করা হয়। এক পর্যায়ে সে জ্ঞানও হারিয়ে ফেলে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর নির্যাতনকারীরা ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ায় আমরা মুখ খুলতে এবং অভিযোগ করতে সাহস পাইনি। পরে অজ্ঞাত একজনের মোবাইলে ধারণ করা নির্যাতনের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।এরপর রবিবার রাতে বিষয়টি আমি থানা পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের জানাই।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আশরাফুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন,‘রাফিকুলকে গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তার পরিবারের লোকজন এখানে ভর্তি করান। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতনের একাধিক চিহ্ন আছে। এখন সে অনেকটা সুস্থ।’

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল্লাহিল জামান জানান, নজরুল ইসলাম নজু মিয়ার কাছে তার ভাতিজি জামাই আব্দুর রহিম টাকা পেত। এ কারণে তিনি গত শুক্রবার সন্ধ্যা রাতে নজু মিয়ার উপস্থিতিতে তার গোয়াল থেকে একটি গরু নিয়ে যান। তারপর মিথ্যা চুরির অভিযোগ তুলে এই যুবককে মারপিট করা হয়। রবিবার রাতে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই ২ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি আরও জানান, রাফিকুলের সাথে আব্দুর রহিম মিয়ার কোন সম্পর্ক নাই। কিন্তু সন্দেহবশত এই কিশোরকে মারপিট করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে পুলিশ মূল ঘটনা উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য