দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বীরগঞ্জ থানার মামলা নং ০৮, ধারা ১১(ক) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০০(সংশোধিত) ২০০৩ ধারা তাং ১২-০১-২০২০ইং মোতাবেক প্রকাশ থাকে যে, বিগত প্রায় ০৫ বছর পূর্বে উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মো.আঃ আজিজের মেয়ে মোছাঃ লাকি আক্তারের (২৪) সাথে একই উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন মাহানপুর গ্রামের মাজেদ ইসলামের ছেলে ফারুক হোসেনের (৩৫) বিবাহ সম্পন্ন হয়।

সংসারকালীন সময়ে তাদের ঔরশজাত ফারিয়া আক্তার (৩) জন্ম নেয়। বিবাহ হওয়ার পর হতেই ফারুক হোসেন ও তার পরিবার তিন লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে বিভিন্ন সময়ে গৃহবধূকে মারধর ও নির্যাতন চালালে পারিবারিক ভাবে একে অপরকে তালাক প্রদান করে। তালাক প্রদানের তিন মাস অতিবাহিত হলে ফারুক বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে পুনরায় লাকিকে বিবাহ করে সংসার করতে থাকে।

পুনরায় বিবাহের পর আবার যৌতুকের টাকার চাপ দিয়ে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের একপর্যায়ে গত ১১-০১-২০২০ইং আনুমানিক বেলা সাড়ে ৩ টায় পাষন্ড স্বামী ফারুক সহ মাজেদ, ফরিদা, মৌসুমী একত্রে মিলে লাকিকে বেদম মারপিট ও নির্যাতন করে জোরপূর্বক মুখের ভিতরে বিষ ঢেলে দিয়ে প্রথমে বীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে দিনাজপুর এম.এ.আব্দুল রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাকি আক্তারকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত লাকীর পিতা-মাতা ঢাকায় বসবাস করায় নিহতের মামা মোঃ বুলবুল ইসলাম অদ্য ১২ জানুয়ারী ১২.০৫ মিনিটে পাষন্ড স্বামী ফারুক সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানার মামলা দাখিল করেন।

এদিকে শনিবার রাতে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনায় স্থান পরিদর্শন করে তদন্ত শেষে গৃহবধূর মরদেহ ওই রাতে উদ্ধার করে রবিবার সকালে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে লাকীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ। রবিবার বিকেলে সাড়ে ৪ টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য