হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় লোহার খনির মজুদ ও পরিধি নির্ণয়ে আবারও কূপ খনন শুরু করা হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি উপজেলার ভাটারা এলাকায় ৩য় কূপ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দিনাজপুর ৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিক। বাংলাদেশ ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) এই কূপ খনন কাজ পরিচালনা করছে।

জিএসবি সুত্র জানায়, ২০১৩ সালে উপজেলার মুর্শিদপুর এলাকায় প্রথম কূপ খনন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ৬ বছর পর ২০১৯ সালের এপ্রিলে ইসবপুর গ্রামে ২য় পর্যায়ে কূপ খনন করে সেখানে ভূগর্ভের ১ হাজার ৭৫০ ফুট নীচে ৪০০ ফুট পুরুত্বের লোহার স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। যা বিশ্বের কয়েকটি দেশে লোহার খনি আবিষ্কার হলেও বাংলাদেশে এটিই প্রথম। এখানে সোনার অস্তিত্বের পাশাপাশি কপার, নিকেল ও ক্রুমিয়ামের উপস্থিতিও রয়েছে। এ অবস্থায় গত ৬-৭ মাস বন্ধ থাকার পর লোহার খনির মজুদ ও পরিধি নির্ণয়ে গত ১ জানুয়ারি থেকে আবারও খনন কাজ শুরু করা হয়েছে।

সুত্রটি আরও জানায়, ওই সময় এসব জাতীয় পদার্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই অবস্থায় পুনরায় ২য় কূপ খনন করা হয়। গত ১ জানুয়ারি কিছু অদুরে ভাটারা এলাকায় ৩য় কূপ খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই মোতাবেক জিএসবি লোহার মজুদ ও পরিধি নির্ণয়ে ৩য় কূপ খনন শুরু করে।

জরিপ কাজে নিয়োজিত জিএসবির কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনের পর থেকে তিন শিফটে প্রায় ৩০ জনের একটি দল সব সময় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আগামী তিন থেকে চার মাস ধরে চলবে এই কার্যক্রম। ১০-১২টি খনন কাজ পরিচালনা করা হবে। আশা করছি এরই মধ্যেই আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারব।

এদিকে রোববার সরেজমিনে গেলে স্থানিয়দের মধ্যে গোলাম মওলা, হাফিজার রহমান, মোবাশে^র হোসেন জানান, আমাদের এলাকায় লোহার খনির সন্ধান পাওয়া গেছে এই কথা শুনে আসছি। খনির সন্ধানে কাজ হচ্ছে এটাও দেখছি। আমরা এতে আশাবাদী। এখান থেকে লোহা উঠানো হলে আমাদের এলাকার বেকার মানুষদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব লোহার খনি বাস্তবায়ন করা হোক। তাহলে আমাদের এলাকা সহ এখানকার মানুষদের জীবনযাত্রা উন্নত হবে। আমরা সেই আশায় তাকিয়ে আছি।

বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন বলেন, ২০১৩ সাল থেকে হাকিমপুরের এই এলাকায় প্রথম কূপ খনন করে লোহার সন্ধান পাওয়া যায়। সেই থেকে আমরা আশাবাদী ছিলাম। ২য় পর্যায়েও আমরা কূপ খনন করেছি। সেখানেও ভালো কিছু মিলেছে। তাই এবার ৩য় কূপ খনন কাজ শুরু করা হয়েছে।

আমরা নিশ্চিত হতে চাই এখানে কি পরিমাণে মজুদ আছে, তার ব্যাপ্তি কতদূর হবে এই লক্ষ্য নিয়ে জিএসবি কাজ করছে। এরপর আরও খনন কাজ আছে। এসব খনন কাজ, মজুদ এবং ব্যাপ্তি নিশ্চিত হতে পারলে আমরা সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করব। এরপর সরকার এটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন। এর বাইরে আমার বলার কিছু নেই।

জানতে চাইলে দিনাজপুর ৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক বলেন, আমাদের এই অঞ্চল খনিজ সমৃদ্ধ এলাকা। আজ এখানে ৩য় পর্যায়ে কূপ খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। আশা করছি আরও কয়েকটি জায়গায় খননের মাধ্যমে ভালো কিছু পাওয়া যাবে। তারপরে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ব্রিফ করবেন। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে লোহার খনি বাস্তবায়নে সরকার পদক্ষেপ নিবেন বলে তিনি আশা করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য