ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তেহরানের অদূরে ইউক্রেনের যে যাত্রীবাহী বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে একটি স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনার নিকটবর্তী হওয়ার পর মানবীয় ত্রুটির কারণে শত্রুর জঙ্গিবিমান ভেবে সেটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। আজ (শনিবার) সকালে এক বিবৃতিতে জেনারেল স্টাফ এ তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারবর্গের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।

গত বুধবার (৮ জানুয়ারি) ভোররাতে ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান তেহরানের ইমাম খোমেনী (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এটির ১৭৬ আরোহীর সবাই নিহত হন।এই ১৭৬ জনের মধ্যে ১১৭ জনই ছিলেন ইরানি যাদের অনেকের কানাডা ও ব্রিটেনের নাগরিকত্ব ছিল। এ ছাড়া, বিমানটিতে কানাডা, ব্রিটেন, আফগানিস্তান ও সুইডেনের যাত্রীরা ছিলেন। ইউক্রেন এয়ারলাইন্সের বিমানটির সেদেশের রাজধানী কিয়েভ হয়ে কানাডা যাওয়ার কথা ছিল।

গত দু’দিন ধরে সশস্ত্র বাহিনীর নিবিড় তদন্ত শেষে আজ এ বিবৃতি প্রকাশ করা হলো।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৩ জানুয়ারি বাগদাদে মার্কিন সন্ত্রাসী হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার লেঃ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি শহীদ হওয়ার পর তেহরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলাকে বিবেচনায় নিয়ে মার্কিন বিমান বাহিনীর তৎপরতা ভীষণভাবে বেড়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে বহু সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থা গ্রহণ করে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বুধবার মধ্যরাতের পরপরই ইরাকে মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর ঘাঁটি আইন আল-আসাদে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর ইরানের আকাশসীমার আশপাশে মার্কিন জঙ্গিবিমানের আনাগোনা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এ সময় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারগুলোতে অসংখ্য শত্রু বিমান ধরা পড়ে। এ অবস্থায় এই ব্যবস্থা পরিচালনাকারী সৈন্যরা অত্যন্ত স্পর্শকাতরতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এ রকম একটি সংকটময় ও স্পর্শকাতর মুহূর্তে ইউক্রেনের ৭৫২ ফ্লাইটটি ইমাম খোমেনী (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশে উড্ডয়ন করে এবং টার্ন নেয়ার সময় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র একটি সামরিক স্থাপনার আকাশে চলে আসে। এ সময় রাডারে বিমানটিকে শত্রুর জঙ্গিবিমান বলে প্রতীয়মান হয় এবং মানবীয় ত্রুটির কারণে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারবর্গের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়। সেইসঙ্গে এই নিশ্চয়তা দেয়া হয় যে, যেসব কারণে এই মানবীয় ত্রুটি হয়েছে সেসব কারণ অনুসন্ধান ও অপসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি কঠোরভাবে রোধ করা হবে। একইসঙ্গে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য