ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিলের প্রায় পাঁচ মাস পর বৃহস্পতিবার ১৫ বিদেশি রাষ্ট্রদূতের একটি দলকে সেখানে নিয়ে যাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই প্রতিনিধি দলে থাকছে না ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোনও দেশ ও অস্ট্রেলিয়া।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, জম্মু-কাশ্মিরে আটক তিন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা। গত ৫ অগস্ট ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই গৃহবন্দি এই তিন নেতা। কিন্তু ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো, রাষ্ট্রদূতদের সুরক্ষার কারণে সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে তাদের কোনও রকম বিধিনিষেধ নেই। তবে কোনোভাবেই আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না রাষ্ট্রদূতেরা।

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও প্রতিনিধি দলে থাকছেন না ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা। সফরে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে জম্মু-কাশ্মির পরিদর্শনকারী এই দলের অংশ নিচ্ছেন না তারা।

সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ইইউ জানিয়েছে কোনোরকম ‘পাহারা দেওয়া সফর’ করতে রাজি নয় তারা। বরং পরে জম্মু-কাশ্মিরে সফর করবে এই রাষ্ট্রদূতরা। নিজেদের ইচ্ছেমতো উপত্যকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন।

এর আগে ইউরোপীয় এমপিদের একটি দল কাশ্মির সফর করেছিল। সেটিও ছিল সরকারি পাহারাতেই। তখন সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছিলেন প্রতিনিধিরা। কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থেকেই সাধারণ জনতার সঙ্গে কথা বলতে হয় তাদের। এবারের সফরেও এমন বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। তবে এত গোপনীয়ভাবে কাশ্মিরের নাগরিকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি নন ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিরা। যদিও লাতিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশে প্রতিনিধিরা বৃহস্পতিবার এই দু’দিনের সফরে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

ভারত সরকারের দাবি, দিল্লিতে অবস্থিত কয়েকজন রাষ্ট্রদূতদের অনুরোধে এই পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সূত্র মতে, ‘আমরা নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এবং জম্মু-কাশ্মির প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার পরই এই অনুরোধটি বিবেচনা করি। উপত্যকাকে স্বাভাবিক করতে সরকারের যে প্রয়াস তা দেখানোর জন্যই দিল্লিতে অবস্থিত ১৫ জন রাষ্ট্রদূতের একটি দলকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে’।

উল্লেখ্য, জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বা ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার এবং রাজ্যটিকে ভেঙে দুটি ভাগে বিভক্ত করার তিনমাস পর গত অক্টোবরে সেখানে দু’দিনের সফরে যান ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৫ জন এমপি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার বলেন, ‘ওই সময় জম্মু-কাশ্মিরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গভীর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল দলটি। সন্ত্রাসবাদ কীভাবে ভারত ও কাশ্মিরকে প্রভাবিত করেছে সে বিষয়ে পরিস্থিতি দেখতেই জম্মু-কাশ্মিরে যান ওই প্রতিনিধি দল। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য