ইরাকে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্রেট সদস্যরা।

চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অনেকেও এতে সুর মিলিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

শুক্রবার বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস বাহিনীর কমান্ডার কাসেম সোলেমানি নিহত হন। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরাকে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী।

ইরানের হামলার সময় মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেট সদস্যদের একটি বৈঠক চলছিল। এর মধ্যেই মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির কাছে হামলার সংবাদবাহী একটি নোট আসে; তৎক্ষণাৎ তিনি বৈঠক ছেড়ে চলে যান বলে সেখানে উপস্থিতদের মধ্যে কয়েকজন রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

“ইরাকে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে চালানো বোমা হামলার ওপর কড়া নজর রাখছি। আমাদের অবশ্যই মার্কিন সেনাসদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; একইসঙ্গে (ট্রাম্প) প্রশাসনের অপ্রয়োজনীয় উসকানি বন্ধ করাতে হবে। ইরানকে তাদের সহিংসতা থামাতে দাবি তুলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব যুদ্ধের ভার বহন করতে পারবে না,” পরে এক টুইটে বলেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেট স্পিকার পেলোসি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্য, সোলেমানি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে এমনটা জেনেই তিনি কুদস বাহিনীর প্রধানের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ইরানি জেনারেলের হামলার পরিকল্পনার সপক্ষে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট বা তার প্রশাসন এখনো কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ডেমোক্রেটরা শুরু থেকেই ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আসছে; সোলেমানিকে হত্যা ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্রেটরা পরবর্তী যে কোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য করাতেও চাইছে; যদিও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট প্রেসিডেন্টের ‘হাতে দড়ি পরানোর’ এ চেষ্টায় সমর্থন দেবে না বলেই অনুমান পর্যবেক্ষকদের।

“মার্কিন জনগণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না,” তেহরানের হামলার পরপরই নিউ ইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেট পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী এলিজাবেথ ওয়ারেন।

দলটির আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী জো বাইডেন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইরানের হামলা অনুমিতই ছিল। পরিস্থিতি সামলাতে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইরাকে মার্কিন বাহিনীর ওপর তেহরানের হামলার সময় পেলোসির সঙ্গে ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতাদের একই বৈঠকে ছিলেন প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নেতা স্টেনি হোয়ের।

হামলার খবর যখন বৈঠকে এল, সেখানে থাকা কেউই তখন বিস্মিত হননি বলেও এ ডেমোক্রেট জানিয়েছেন।

“কেউই সোলেমানির মৃত্যুতে অনুতপ্ত নয়, সে একজয় ভয়ংকর সন্ত্রাসী ছিল, যে অনেকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু যখনই আপনি এমন কিছু (সোলেমানিকে হত্যা) করবেন, এর একটা প্রতিক্রিয়া থাকবেই- এতে কাউকে বিস্মিত দেখায়নি,” ভাষ্য হোয়েরের।

ডেমোক্রেটরা ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধোন্মদনার সমালোচনা করলেও রিপাবলিকান সিনেটর মার্কো রুবিও ইরানি হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরান মার্কিনিদের একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে চাইছে বলেও মন্তব্য তার।

“মার্কিন নীতি নিয়ে বিতর্ক করার সময় আসবে। আজ রাতে মার্কিন ও মিত্র বাহিনী একটি রাষ্ট্রের সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। তাদের (সেনা) সমর্থনে ও সুরক্ষায় এবং যথোপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে মার্কিনিদের অবশ্যই একত্রিত হওয়া উচিত,” বলেছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য