শীতে পানি পান করা হয় কম অথচ প্রস্রাবের বেগ পায় বেশি- এরকম হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণও রয়েছে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল বিস্তারিত।

শীতে মূত্রত্যাগের মাত্রা বাড়ার কারণ: শরীরের ওপর আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবই এখানে মূলত দায়ী। শীতকালে মূত্রত্যাগের মাত্রার বেড়ে যাওয়া এক ধরনের মানসিক প্রভাব। যাকে চিকিৎসাশাস্ত্রের ভাষায় বলা হয় ‘কোল্ড-ইনডিউসড ডাইউরেসিস’। যেখানে শীতল আবহাওয়া প্রস্রাবের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

মানুষ সাধারণত ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অভ্যস্ত। তবে শীতকালে যখন ঠাণ্ডায় কাঁপতে থাকেন, তখন রক্তনালী সরু হয়ে যায়, রক্তপ্রবাহের গতি ও রক্তচাপ দুটাই বেড়ে যায়।

এই বাড়তি রক্তপ্রবাহ বৃক্কসহ সকল অঙ্গে রক্তের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যাকে বলা ‘ভ্যাসোকন্সট্রিকশন’। আর বৃক্কে রক্তপ্রবাহ বাড়লে তা আরও বেশি কাজ করতে বাধ্য হয়। বর্জ্য উৎপাদনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে শৌচাগারে যাওয়া মাত্রাও বাড়ে যায়। ভরা মুত্রথলি শরীরের তাপমাত্রা কমায়। তাই যত দ্রুত তা খালি করা হবে, শরীরের তাপমাত্রা ততটাই অক্ষুণ্ন থাকবে।

শীতকালে অনেকেই গরমের দিনগুলোর তুলনায় বেশি মুত্র্রত্যাগ করে থাকেন। গরমের দিনগুলোতে মুত্রথলি প্রসারিত হয়ে বেশি প্রস্রাব ধারণ করতে পারে, তাই শৌচাগারে যাওয়ার মাত্রা কমে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে, শীতকালে বারবার মুত্রত্যাগ করা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, এভাবেই শরীর নিজেকে শীতের হাত থেকে রক্ষা করে। তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘হাইপোথারমিয়া’ নামক রোগের আশঙ্কা, যে রোগে শরীর যতটুকু তাপ তৈরি করে তার থেকে বেশি তাপ হারাতে থাকে। তাই মুত্রত্যাগের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে যদি অস্বাভাবিক কাঁপুনি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, নাড়ির গতি কমে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শীতকালে বারবার শৌচাগারে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচার একটাই উপায়, তা হল শরীরের উষ্ণতা বজায় রাখা। অন্যথায় প্রকৃতির ডাকে যথাসময়ে সাড়া দিতে হবে। তবে বেগ চেপে রাখা উচিত নয় কখনই। কারণ সেটার ক্ষতিকারক দিক আরও ভয়ানক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য