দিনাজপুর সংবাদাতাঃ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) সনৎ কুমার সাহা বলেছেন, বাংলাদেশে ভুট্টার ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। দেশের ভুট্টা পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও মানুষের খাদ্য হিসেবেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এদেশের ভুট্টা ও গম রোগ-বালাই কম ও ফল বেশী হয়।

শনিবার (৪ জানুয়ারী) দুপুরে দিনাজপুরের নশিপুরে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে “ভুট্টা চাষ টেকসইকরণে চ্যালেঞ্জসমূহ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথাগুলো বলেন।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ এছরাইল হোসেনের সভাপতিযেত্ব কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে মানুষের নিরাপদ খাদ্য চাহিদা নিশ্চিতকরণের উপর জোর দেন এবং এজন্য লাভজনক, টেকসই ও পরিবেশ বান্ধব একটি কৃষি ব্যবস্থা নিশ্চিত করণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ভুট্টা একটি ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার এবং প্রতিবছর বাংলাদেশে ভুট্টার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কারণ ভুট্টার ফলন এবং বাজার মূল্য বেশী হওয়ায় কৃষক অন্য যেকোন ফসল থেকে বেশী লাভবান হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চাহিদার তুলনায় এখনও ভুট্টায় আমাদের ঘাটতি আছে। তাই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে আমাদের ভুট্টাসহ গমের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর এজন্য গবেষণার বিকল্প নাই। তিনি গম ও ভুট্টার তাপ, খরা, লবনাক্ততা সহনীয় এবং রোগ-পোকামাকড় প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। গম ও ভুট্টার নতুন জাত ও উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তিগুলো কৃষকের দোরগোড়ায় নিতে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ সকলকে নির্দেশনা দেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সকলের প্রচেষ্টায় আমরা অচীরেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।

কর্মশালার সভাপতি বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ এছরাইল হোসেন তার বক্তব্যে বাংলাদেশে গম ও ভুট্টার উৎপাদন ও চাহিদার সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গম ও ভুট্টা চাষ লাভজনক।

কর্মশালায় রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সরকার ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কৃষক প্রতিনিধিসহ ৬০ জন অংশগ্রহণ করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য