পঞ্চগড় সদর উপজেলার মোলানীপাড়ায় তীব্র শীত উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক সুবিধা বঞ্চিত প্রতিবন্ধী, বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ এসেছেন দারিদ্র কল্যাণ প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রে। গতকাল ২ জানুয়ারি সমাজসেবা দিবস উপলক্ষ্যে ফ্রি চিকিৎসা সেবা নিতে এসেছেন।

সাড়ে ৯ বছরের শিশু মাহমুদুলকে কোলে নিয়ে এসেছেন মা রওশন আরা, স্বামী রফিকুল ইসলাম একজন ক্ষুদ্র কাঁচামাল ব্যবসায়ী বাড়ী- সদর উপজেলার মোলানীপাড়ায়। শিশুটি কথা বলতে পারে না, বসতেও পারে না, হাটা চলাও করতে পারে না। ভূমিহীন এই অসহায় পরিবারের নারীটির চোখেমুখে ছিল দু:স্বপ্নের ছাপ।

১৪ বছরের মেয়ে রুমাইয়া জান্নান ৭ম শ্রেণিতে পড়ে। সেও থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত, ৩ মাস পর পর শরীরে রক্ত দিতে হয়। এমনিতেই সীমাহীন দরিদ্রতা। অন্যদিকে সন্তানের এই অবস্থা। সব মিলে তাঁর চোখে মুখে এখন দু:স্বপ্ন। চিকিৎসকের কাছে প্রশ্ন আমার শিশুটি কি ভাল হবে। এমন অনেক প্রশ্ন রাখলেন।

সদর উপজেলার পুকুরী ডাংগা গ্রাম থেকে এসেছেন সাহেরা বানু, স্বামী কৃষক, কোলে নিয়ে এসেছেন ৪ বছরের ছেলেকে। শিশুটি হাটতে পারে না। দরিদ্র পরিবারের সাহেরা বানু মুখে একই প্রশ্ন, আমার ছেলেটি কি হাটতে পারবে। মেয়ে জুলিয়াস তানিয়া এইচএসসিতে পরে সেও শারীরিকভাবে অনেকটাই দূর্বল।

কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের গলেহা থেকে এসেছেন আয়েশা বানু আড়াই বছরের শিশু মাহিনকে কোলে নিয়ে এসেছেন। স্বামী ভ্যান চালক। এই শিশুটি বসতেও পারে না, হাটতেও পারে না।

সদর উপজেলা মোলানী পাড়া থেকে এসেছেন সামিনা বেগম, দরিদ্র পরিবারের এই নারীটি ১২ বছরের সাহিনুর রহমানকে নিয়ে আসেছে। ৪ মেয়ে ১ ছেলে, ছেলেটি কথা বলতে পারে না, মায়ের মনে ভীষণ কষ্ট। এমনিতেই দরিদ্র পরিবার। তার উপর ৪ মেয়ে, ছেলেটি প্রতিবন্ধী। এমন বিপুল সংখ্যক রোগী এসেছেন চিকিৎসা সেবা নিতে।

বয়সের ভারে নজু আকলিমা(৮০) এসেছেন কোমর ও হাতপায়ের ব্যাথার চিকিৎসা নিতে। বললেন স্বামী মারা গেছেন ১৯৭৪ সালে। ভিটেমাটি ছাড়া তেমন কিছু নেই। ৪জন ছেলে-মেয়ে মানুষের ক্ষেতে খামারে কাজ করে সন্তানদের বড় করেছেন। তাদের অভাবের সংসার তাই বড় কোন ডাক্তারকে দেখাতে পারে না। এসেছেন চিকিৎসা সেবা নিতে। ফ্রি চিকিৎসা পেয়ে ভীষণ খুঁশি। চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিবন্ধী রোগীদের ৯০% দরিদ্র এমনটিই জানালেন কর্তৃপক্ষ। বিপুল সংখ্যক নারী এসেছেন বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে। তারাও ফ্রি চিকিৎসা সেবা নিতে পেরে ভীষণ খুশি।

পঞ্চগড়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দারিদ্র কল্যাণ সংস্থা’র আয়োজনে প্রতিবন্ধী, প্যারালাইসিস, বাত ব্যাথা, হাড় খয়, মেরুদন্ড ব্যাথা, হাত পা অবস ও ঝিমঝিম করা রোগীদের বিনোমূল্যে ফিজিও থেরাপি প্রদান ও সুস্থ্য থাকার জন্য ব্যায়াম সেখানো হয়। এছাড়াও মহিলা ও বয়স্ক রোগীদের ইউনানী চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক মো. শাহজালাল, ডাক্তার এস.এম জুলকার নাইন সাগর, ফিজিও থেরাপিস্ট, হেকিম আম্বিয়া আক্তার, দারিদ্র কল্যাণ সংস্থা, প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রের মার্কেটিং প্রধান মো: শাহিন প্রমূখ।

সংস্থাটি সমাজের অবহেলিত এ সকল মানুষের জন্য আগামী দিনে ব্যাপক পরিসরে কিভাবে সেবা প্রদান করা যায় সে নিয়েই কাজ করছেন জানালেন কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য