ইন্দোনেশিয়ায় বুধবারের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধ্বসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ১৩ জন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতব্যাপী প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় রাজধানী জাকার্তা ও বেঙ্কুলু প্রদেশের কয়েক হাজার মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন । খবর আলজাজিরা’র

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) বৃহস্পতিবার ২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এর আগে গতকাল বুধবার নয় জন মারা যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছিল। তাদের মধ্যে অধিকাংশই হাইপোথার্মিয়ায় (শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমতে থাকা) মারা গেছেন। কয়েকজন ভূমিধ্বসে এবং এক কিশোর বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন।

সংস্থাটি জানায়, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেঙ্কুলু প্রদেশ। নিহতের মধ্যে ২২ জনই এই প্রদেশের। বন্যার ফলে বেঙ্কুলুর বাড়ি-ঘর, রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রদেশের কর্তৃপক্ষ বন্যার্তদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র এবং খাবারের ব্যবস্থা করেছে।

টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, রাজধানী জাকার্তার রাস্তায় গাড়িগুলো বন্যার পানিয়ে প্রায় সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে গেছে এবং বুক ও কোমর সমান বন্যার নোংরা পানির মধ্য দিয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন। এদিকে বন্যার পানিতে বিমানের রানওয়ে ডুবে যাওয়ায় জাকার্তার অভ্যন্তরীণ হালিম বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সুমাত্রা দ্বীপে গত কয়েকদিনে বৃষ্টি ও ঝড়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৩ জন।

ইন্দোনেশিয়ায় সর্বশেষ ২০০৭ সালে ভয়াবহ বন্যা আঘাত হেনেছিল। তখন অন্তত ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য