অত্যন্ত দরিদ্র ঘরের মেধাবী শিক্ষার্থী রোকেয়া খাতুন। অনেক কষ্টে ধার দেনা করে এবছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে অদম্য মেধাবী রোকেয়া ও তার পরিবারের। সাইকেল মেকার বাবার পক্ষে তার উচ্চ শিক্ষার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য পরিবারটি রোকেয়ার উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে সমাজে বিত্তবানদের সাহায্য সহযোগিতা কামনা করছেন। একটু সহযোগিতা পেলে রোকেয়া ভবিষ্যতে স্বপ্ন দেখছেন প্রশাসনের ক্যাডার হবার।

অদম্য মেধাবী রোকেয়া খাতুন লালমনিরট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের নায়েগর হারাটি (বালাটারী) গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। ৪ ভাই-বোনের মধ্যে সে তৃতীয়। বড় ভাই এসএসসি পাশের পর অর্থের অভাবে লেখাপড়া করতে না পেরে ৪ বছর আগে বাড়ী থেকে বের হয়ে গেছেন। বর্তমানে ঢাকায় একটি গার্মেন্টস এ কাজ করলেও পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বড় বোনের বিয়ে হলেও ছোট ভাই লালমনিরহাট সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসিতে পড়ছেন।

সরেজমিন গিয়ে কথা বলে জানাগেছে, রোকেয়া ২০১৬ সালে কিসামত হারাটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ হতে জিপিএ-৫ ও লালমনিরহাট সরকারি মজিদা খাতুন কলেজ থেকে ২০১৯ সালে একই বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৫৮ পেয়েছে। কিন্তু আর্থিক সংকট আর পারিবারিক সমস্যার কারণে শিক্ষা জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে যায় রোকেয়ার। এরপর চিকিৎসক হবার স্বপ্ন নিয়ে একবেলা খেয়ে না খেয়ে লেখাপড়া শুরু করেন।

রোকেয়া জানান, সাইকেল মেকার বাবা শহিদুল ইসলামের রোজগারে চলত না সংসার। তাই ৯ম শ্রেণিতে পড়াকালীন শুরু করেন প্রাইভেট পড়ানোর। আবার অর্থের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে ছাত্র অবস্থায় একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতার দায়িত্ব নেন রোকেয়া।

নিজের লেখাপড়ার পাশাপাশি রাতে অন্যের বাড়ীতে প্রাইভেট পড়া শুরু করেন। আর স্বপ্ন দেখেন চিকিৎসক হবার। পিইসি ও জেএসসিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তিও পেয়েছে রোকেয়া। শুধু তাই নয়, এসএসসিতে বৃত্তি পায় অদম্য মেধাবী রোকেয়া।

এদিকে এইচএসসি পাশের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পায় রোকেয়া। অন্যের কাছ থেকে হাত পেতে ও ধার দেনা করে ভর্তি হলেও দুশ্চিন্তা কাটেনি রোকেয়ার। আগামী বছরের শুরুতে ক্লাস শুরু হবে তার কিন্তু বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। মেসে থাকা ও লেখাপড়ার খরচ বহন করা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কোথায় পাবেন অর্থ? কে দিবেন তার অর্থের যোগান? এমন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে রোকেয়া ও তার পরিবারের। অর্থের কাছে হেরে যেতে চান না রোকেয়া। এজন্য সে সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন। আর সহযোগিতা পেলেই ভবিষ্যতে প্রশাসনের ক্যাডার হয়ে দেশের সেবা করতে চান এমনটাই প্রত্যাশা অদম্য মেধাবী রোকেয়ার।

রোকেয়ার মা আঞ্জু বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ের স্বপ্ন কি পূরণ হবে না? তিনি রোকেয়ার উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। রোকেয়ার বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, এক সময় অনেক কিছু থাকলেও আজ নিঃস্ব। এখন শুধু বাড়ীভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। সারাদন সাইকেল মেরামত করে একশ থেকে ২শ টাকা রোজগার হয়, তা দিয়ে কোন রকম চলছে সংসার। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে তিনি সকলের নিকট সহযোগিতা কামনা করেন। সহযোগিতা করার জন্য যোগাযোগ ও বিকাশ নম্বর ০১৩০২১০০৩৭৬।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য