বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নিপীড়নের প্রতিবাদে মৌন মিছিল করেছে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। সোমবার তাদের এই মিছিলে যোগ দেন বেসরকারি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে পড়া চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত পরিচালক, রাজনীতিকসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষকও।

সম্প্রতি ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অভিযান চালায় পুলিশ। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পাশাপাশি অনেককেই আটক করা হয়। পুলিশি নিপীড়নের প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিকেলে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল পার্ক স্ট্রিট, লাউডন স্ট্রিট, উড স্ট্রিট হয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। স্টুডেন্টস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ঋষি বসু জানিয়েছেন, জামিয়া মিলিয়ার ঘটনার পরই মিছিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে সব শিক্ষার্থীকে জানিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী সংসদের সাবেক সম্পাদক ফিরদৌসাল হাসান জানান বর্তমান শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভে ১৫ ডিসেম্বর পুলিশ অভিযান চালালেও এতোদিন পর তার প্রতিবাদ কেন হয়েছে জানতে চাইলে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা ও ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন ছিল। ওই উৎসবের পরই প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিছিলে অংশ নেন চলচ্চিত্র পরিচালক অরিন্দম শীল, সঙ্গীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্র, তৃণমূল নেতা দীনেশ ত্রিবেদীসহ অনেকে। দীনেশ ত্রিবেদি বলেন, এই আন্দোলনে সারা দেশের ছাত্রসমাজ জেগে উঠেছে। ছাত্রসমাজ জেগে উঠলে যেকোনও আন্দোলন অন্যমাত্রা পায়। মিছিলে অংশ নিয়ে কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক রঞ্জন নাগ বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি বেহাল। এই বেহাল অবস্থা থেকে সাধারণ মানুষের মুখ ঘোরাতেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারও প্রতিবাদ দরকার।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য