উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন দেশের ‘সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা’ নিশ্চিতে ‘ইতিবাচক ও আক্রমণাত্মক’ ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

পিয়ংইয়ংয়ে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কয়েকদিনব্যাপী প্লেনারি বৈঠকের শুরুতে দেওয়া বক্তৃতায় কিম এ ইঙ্গিত দেন বলে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে।

বছর শেষ হওয়ার আগ মুহুর্তে এ ধরনের বৈঠক উত্তর কোরিয়ায় সাধারণত হয় না বলে পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আলোচনার সমাপ্তি টানতে ও নতুন করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কর্মকৌশল ঠিক করতেই এ প্লেনারি বৈঠক ডাকা হয়েছে বলেও উদ্বেগ তাদের।

পিয়ংইয়ং নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা তার চেয়েও আধুনিক কোনো অস্ত্র উৎক্ষেপণ বা পরীক্ষা করলে ওয়াশিংটন ‘ভয়ানক হতাশ’ হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ফের বাড়তে শুরু করে।

বছরের মাঝামাঝি দুই কোরিয়ার সীমান্তে ট্রাম্প-কিমের দেখা হলে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।

উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে এ বছরের শেষ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে কার্যকর প্রস্তাব নিয়ে হাজির হতে বলেছিল। নাহলে পিয়ংইয়ং ফের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হবে বলেও হুঁশিয়ারি ছিল তাদের।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার কিম ওয়ার্কার্স পার্টির ওই প্লেনারি বৈঠক উদ্বোধন করেন। পরে রোববারের বৈঠকেও তিনি সভাপতিত্ব করেছেন। বৈঠকটি সোমবারও চলতে পারে বলে কেসিএনএ ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিবিসি বলছে, ক্ষমতাসীন দলের এ প্লেনারি বৈঠককে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম সর্বোচ্চ পরিষদ মনে করা হলেও, এটি মূলত কিমের সিদ্ধান্তকেই অনুমোদন করে।

নতুন বছরের শুরুতে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া কিমের ভাষণের আগে এবারের এ প্লেনারিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। প্রতিবছরের এ ভাষণগুলোতেই কিমের বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো আসে।

দলের এবারের প্লেনারি সভায় কিম বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতিবাচক ও আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বলে কেসিএনএ-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে ‘আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা’ বলতে কিম কি বুঝিয়েছেন তা খোলাসা করেনি তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য