শিশুর প্রথম খাবার মায়ের বুকের দুধ, যা শিশুকে ৫-৬ মাস পর্যন্ত সুরক্ষিত রাখে। ছয় মাস বয়স থেকে শিশুকে মায়ের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার অভ্যাস করাতে হবে। কারণ শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মেধা বিকাশের জন্য পুষ্টি চাহিদা বেড়ে যায়, যা শুধুমাত্র বুকের দুধ দ্বারা পূরণ করা সম্ভব হয় না।

একটি শিশুর জন্মের পর আয়রন ও জিংক শরীরে পাঁচ মাস পর্যন্ত জমা থাকে। এরপর তাকে নতুন করে আয়রন ও জিংক সমৃদ্ধ খাবার দিতে হয়। অনেক সময় মায়েরা বুঝতে পারেন না শিশুকে কোন ধরনের খাবার দিতে হবে এবং কী খাওয়াবেন। আবার হঠাৎ করে শিশুরা নতুন খাবার খেতেও চায় না। তাই ধীরে ধীরে তাকে নতুন খাবারে অভ্যস্ত করাতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থার নাম হলো ‘ওয়েনিং।’

৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে শিশুর জিহ্বাতে ‘টেস্ট বাড’ তৈরি হয় শিশুকে নতুন টেস্ট গ্রহণে এবং বুঝতে সাহায্য করে। তাই খাবার সামান্য হলেও খেতে যেন হয় সুস্বাদু এবং পরিপূরক।

প্রথম খাবার শুরু করতে হবে শর্করা দিয়ে। যেমন নরম ভাত, আলু সেদ্ধ করে চটকে অল্প অল্প করে আঙ্গুলের ডগায় নিয়ে শিশুর মুখে দিতে হবে। খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যে কোনও রকম প্রতিক্রিয়া না হলে মনে করতে হবে খাবার ঠিকমতো হজম হচ্ছে। এছাড়াও পাকা কলা, পাকা পেঁপে, আপেল ইত্যাদি চটকে দেওয়া যেতে পারে। ৯ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুকে খাবার দিতে হবে দিনে পাঁচ-ছয়বার।

চাল, ডাল হালকা কিছু সবজি যেমন আলু, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়ার সাথে মুরগির ছোট এক টুকরা মাংস ও তেল (বাচ্চাদের খাবারে তেল ব্যবহার করা জরুরি) ইত্যাদি ভালোভাবে সেদ্ধ করে ম্যাশ করে অল্প অল্প পরিমাণে খাওয়াতে হবে। সাথে থাকবে বুকের দুধ এরপর ধীরে ধীরে দিতে হবে একটি সেদ্ধ ডিম। ডিম পুরোপুরি না খেলেও অসুবিধা নেই। অল্প পরিমাণে দিলে হজম করতে সুবিধা হবে।

এছাড়াও সুজি অথবা পায়েস দিতে পারেন। বাড়িতে তৈরি চালের সুজি দুধ, গাজর ও গুড় মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন। তবে বাড়তি খাবার দেওয়ার শুরুতেই তাড়াহুড়া করতে যাবেন না। আস্তে আস্তে এই খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য