গর্ভাবস্থায় মায়ের স্থূলতা সন্তানের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

গবেষণা লব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকরা বলছেন, নবজাতক সন্তানের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের বিলম্বিত হওয়ার নেপথ্যের অন্যতম কারণ গর্ভাবস্থায় মায়ের অতিরিক্ত ওজন। একারণে নবজাতকের হাঁটাচলা ও মস্তিষ্কের বিকাশ অপরিণত রয়ে যেতে পারে।

মোট ৩৬৮ জন মা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে এই গবেষণা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককেই বেছে নেওয়া হয়েছে একই অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান থেকে। গর্ভাবস্থা থেকে সন্তানের বয়স তিন থেকে সাত বছর হওয়া পর্যন্ত তাদের গবেষণার আওতায় রাখা হয়।

‘বিএমসি পেডিয়াট্রিকস’ শীর্ষক জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

গবেষণার অন্যতম গবেষক, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের এলিজাবেথ ওয়াইডেন বলেন, “আশঙ্কাজনক বিষয় হল, বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিকাশ বিবেচনায় আনার পরও শৈশবে শিশুর বিকাশের সঙ্গে মায়ের গর্ভকালীন স্থূলতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এথেকে বোঝা যায়, এই সম্পর্কের প্রভাব দীর্ঘসময় টিকে থাকে।”

গবেষণার আওতাভুক্ত শিশুদের তিন বছর বয়সে গবেষকরা তাদের ‘মোটর স্কিল’ পর্যবেক্ষণ করেন এবং দেখা যায়, ছেলে সন্তানদের ‘মোটর স্কিল’ বা হাঁটাচলা করতে শেখার ক্ষমতা বিকশিত হতে বিলম্বিত হওয়ার পেছনে মায়ের গর্ভকালীন স্থূলতার বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। এই শিশুরা সাত বছর বয়সে পৌঁছালে, আবার তাদের ‘মোটর স্কিল’ পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, গর্ভাবস্থায় যেসকল মায়ের ওজন অতিরিক্ত ছিল তাদের ‘আইকিউ’য়ের মাত্রা যেসকল মায়ের ওজন গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক ছিল তাদের সন্তানদের তুলনায় পাঁচ পয়েন্ট বা তারও কম।

তবে মজার বিষয় হল মেয়ে সন্তানদের মাঝে এমন কোনো প্রভাবই দেখা যায়নি।

মায়ের গর্ভকালীন স্থূলতা তাদের সন্তানদের কেনো প্রভাবিত করে তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেন নি গবেষকরা। এবিষয়ক পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোয় মায়ের খাদ্যাভ্যাস আর শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ এই দুইয়ের মাঝে সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। যেমন যে মায়েরা গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু ‘ফ্যাটি অ্যাসিড’ বেশি গ্রহণ করেছেন, তাদের সন্তানদের ‘আইকিউ’ বেশি পাওয়া গেছে।

খাদ্যাভ্যাস ও আচরণগত তথাৎ হয়ত এখানে ভূমিকা রাখে। আবার স্থূলাকায় নারীদের শারীরিক কোনো জটিলতার কারণে হয় ভ্রুণের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রদাহ, হজমজনীত চাপ, হরমোনের তারতম্য, অতিরিক্ত ইনসুলিন ও গ্লুকোজ ইত্যাদি কারণ থাকতে পারে।

গবেষকরা তাদের গবেষণার জন্য নানান দিক বিবেচনায় এনেছেন যেমন, মায়ের সাংস্কৃতিক দিক, বৈবাহিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি। শিশুর জন্মের জটিলতা যেমন ‘প্রিম্যাচিউর বার্থ’ পরিবেশগত দূষণ, রাসায়নিক উপাদানের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ইত্যাদিও গবেষকরা বিবেচনায় এনেছেন।

স্নেহশীল পারিবারিক পরিবেশ এই ক্ষতিকর প্রভাব নিরাময়ে কার্যকর বলে দাবি করেন গবেষকরা। মায়ের গর্ভকালীন স্থূলতার কারণে শিশুর উপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পরে তা সামান্য হলেও কমায় পরিবারের স্নেহ-মমতা।

ছবি: রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য