দিনাজপুর সংবাদাতাঃ জাতীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেছেন, বর্তমান বিজ্ঞান ভিত্তিক যুগে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা যাতে বিশ্ব মানের লেখাপড়া শিখতে পারে ও তাদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ বাড়ে এ জন্য তিনি বিদ্যালয়গুলোতে নতুন নতুন ভবন নির্মান করে দিচ্ছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের কাহারোল-বীরগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যালয় গুলোতে নতুন ভবন নির্মান করা হয়েছে। পাশাপাশি লেখাপড়ার মানও বেড়েছে। বীরগঞ্জ-কাহারোল উপজেলা থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপিঠে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। আর মেধাবী যারা অর্থের অভাবে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না তাদের আমরা অর্থ সহায়তা দিয়ে ভর্তির সুযোগ করে দিচ্ছি। বীরগঞ্জ উপজেলা এখন শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই উপজেলায় দুটি সরকারি স্কুলে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তরের স্থাপন করা হয়েছে।

২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ বীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০ টায় জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে সুবর্ণ জয়ন্তীর উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি।

এরপর বিশাল শোভাযাত্রা স্কুলের সামনে থেকে বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে। শোভাযাত্রায় এমপি গোপালসহ পাইলট স্কুলের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ গ্রহণ করে।

সুনামধন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে (২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর) দুই দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে পুরো বিদ্যালয়টি সাজানো হয়। পুরনো শিক্ষার্থীর একত্রে মিলে ব্যাচ ব্যাচ মিছিল করে।

বিভিন্ন বয়সের নতুন ও পুরাতন সকল শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে বিদ্যালয় চত্বরটি যেন মিলন মেলায় পরিনত হয়।

সূবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব অধ্যাপক বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও সমাজচিন্ততক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক।

আলোচনা সভায় সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাকারিয়া জাকার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়ামিন হোসেন, বীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ মোশাররফ হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম, বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ খয়রুল ইসলাম চৌধুরী।

আলোচনা সভা শেষে ডকুমেন্টারি ও থিম সংগীত পরিবেশন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে সংবর্ধনা ও স্মৃতিচারণ, সংগীতানুষ্ঠান এবং আতশবাজীর মাধ্যামে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সমাপনী ঘোষনা করা হয়।

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ১৯৮২ ব্যাচের শিক্ষার্থী সুভাষ দাস। উল্লেখ্য, বীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় স্কুলের নাম ছিল বীরগঞ্জ পাইলট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। পরে ১৯৮৫ সালে স্কুলটি সরকারি করণ করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য