চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ বরাবরের মতো এবারও দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের কৃষকরা ব্যাপকহারে রসুন চাষ করেছেন। বিগত বছরগুলোতে চাষীরা নিজেদের উদ্ভাবিত জমি চাষ না করে রসুন চাষ পদ্ধতিতে ব্যাপক সফলতা পাওয়ায় ও উৎপাদিত রসুনের ভালো দাম পাওয়ায় এ মৌসুমেও তারা রসুন চাষে ঝুঁকেছেন।

সেচ ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ও অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় এবার উপজেলায় রসুনের বাম্পার ফলনের মাধ্যমে কৃষক লাভবান হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসূমে উপজেলার ১২ ইউনিয়নে ৪’শ ৮০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ।

আকস্মিক কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি, নশরতপুর, ফতেজংপুর, সাইতাড়া, আব্দুলপুর, নান্দেড়াই, মোস্তফাপুর, রাজাপুর গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত মৌসুমের শুরুতে রসুনের ভালো দাম ছিল না।

তবে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে রসুনের ভালো দাম পেয়েছে কৃষকরা। ভালো দাম পাওয়ায় এ বছরও এ এলাকার কৃষকরা ব্যাপকহারে রসুন চাষ করেছেন। এবার রসুন বীজের অঙ্কুরোদগমও ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় এবং প্রয়োজনীয় সেচ ও সার পাওয়ায় রসুনের চারা এখন দ্রত গতিতে বেড়ে চলেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রসুনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন তারা।

আর তাই রসুন চাষীরা সারাদিন দিনমজুর ও স্ত্রী-পুত্রদের সাথে নিয়ে রসুনের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। উপজেলার সাতনালা গ্রামের রসুন চাষী জাকির হোসেন ও আলোকডিহি গ্রামের বেলাল হোসেন জানান, প্রতি বিঘা জমিতে রসুন চাষে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক লাগছে।

তাদের শ্রমমূল্য ও খাবার খরচ বাবদ খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। এছাড়া বীজ, রাসায়নিক সার ও সেচ দিতে আরও প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ পড়ছে। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘা জমিতে ২৫ থেকে ৩০ মণ রসুন পাওয়া যাবে।

মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা কম হলেও পরবর্তীতে প্রতিমণ রসুন ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা যাবে। এতে বিঘা প্রতি সব খরচ বাদে ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকবে বলে আশা করছেন তারা। উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান জানান, বর্তমানে চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষকদের কাছে রসুন প্রধান অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে ।

এছাড়া এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো আছে। তারপরও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সারাক্ষন মাঠে নজরদারী করছেন। তাই এবার রসুনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য