ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন (সিএএ) বাতিলের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পর এবার মাঠের আন্দোলনে যুক্ত হতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলোও। প্রকাশ্যে এই আইনের বিরোধিতার পর এবার অহিংস আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দল কংগ্রেস।

গতকাল সোমবার মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধ রাজঘাটে ধর্না বা ‘সত্যাগ্রহ’ কর্মসূচি পালন করেছে তারা। এদিন সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী, সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ দলটির শীর্ষ নেতারা সত্যগ্রহে অংশ নেন। নেতারা সংবিধানে দেওয়া জনগণের অধিকার রক্ষার দাবি জানান। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন তারা। মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস নেতা কমল নাথ এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী আরেক কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলত বলেছেন, তাদের রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন বাস্তবায়িত হবে না। কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম সংবিধান রক্ষায় বিজেপি ছাড়া সব দলকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও মাঠের আন্দোলনের পাশাপাশি সব বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করতে বলেছেন।

তবে এই আইনের বিরুদ্ধে তামিল নাড়ুর চেন্নাইয়ে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিরোধী দল ডিএমকে। দলের নেতা এ কে স্ট্যালিন ২০ হাজারের বেশি মানুষের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। তিনি শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আরো বড়ো প্রতিবাদ কর্মসূচি করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের সময় সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দা করেছে ভারতের এডিটরস গিল্ড।

এদিকে বিক্ষোভের পালটা হিসেবে নাগরিকত্ব আইনের ‘প্রকৃত সত্য’ তুলে ধরতে পথে নেমেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। গতকাল সোমবার কলকতায় মিছিলে নেতৃত্ব দেন দলটির সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি জগত্প্রকাশ নড্ডা। বিজেপি নেতারা বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন হওয়ার পর থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ-আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। খবর:এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য