দিনাজপুর সংবাদাতাঃ উত্তর জনপদের হিমালয় ঘেষা দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় তীব্র শীতে জন জীবন বিপর্যস্ত। জরুরী ভিত্তিতে সরকারী-বেসরকারী ভাবে শীত বস্ত্র বিতরণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ১৩টি উপজেলার হত দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ। দিনাজপুরে মাঝেমধ্যে শৈত প্রবাহ, হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কবলে পড়ে জন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ হতে দিনাজপুরে ঘন কুয়াশায় অনেক সময় পথ-প্রান্তর, রাস্তা-ঘাট ঢাকা পড়ে থাকছে। শিশু-কিশোরসহ ছিন্নমূল মানুষের জীবন শীতে যুবুথুবু হয়ে পড়েছে। হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শীত জনিত রোগের প্রাদূর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। শীতে শিশুদের ডাইরিয়া সহ ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হচ্ছে।

বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে কাহিল হয়ে পড়েছে বৃদ্ধ মানুষ সহ গৃহপালিত গোবাদী পশু ও অন্যান্য প্রাণীকূল। স্বচ্ছল বিত্তবান মানুষ বিভিন্ন শহর-মার্কেট থেকে শীতের গরম কাপড় ক্রয় করতে পারলেও গতবারের তুলনায় এবার শীতবস্ত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষ গরম কাপড় ক্রয় করতে পারছে না।

ফলে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের জনগণ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার দু’পার্শে ফুটপাতের দোকান থেকে নতুন ও পুরাতন কম্বল, সোয়েটার, জ্যাকেট, শিশুদের বিভিন্ন শীতবস্ত্র ক্রয় করে শীত নিবারণের জন্য দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অপরদিকে শহরের নামী-দামি তৈরী পোশাকের দোকানগুলোতে বিত্তবান লোকদের শীত বস্ত্র ক্রয় করতে দেখা যায় এবং লেপ তৈরীর দোকান গুলোতে প্রচন্ড ভীড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এছাড়াও নিম্ন আয়ের মানুষেরা বিশেষ করে সমগ্র উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ও বস্তি সমুহের লোকজন দিনের বেলা খর-কুটো জ্বালিয়ে কোন রকমে শীত নিবারণ করলেও গরম কাপড়ের অভাবে রাতে শীতের কবলে পড়ে কাতরাচ্ছে। অসহায় গরীব-দুস্থ, ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র শ্রেণীর মানুষের মাঝে সরকারী কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও হতদরিদ্র শ্রেণীর মানুষ অনেকেই শীত বস্ত্র এখন পর্যন্ত না পেয়ে শীতের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। সরকারী বা বেসরকারী ভাবে বিভিন্ন এনজিও এবং বিত্তবাণ ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য