কনুইয়ের নিচ থেকে দুটি হাত নেই। তবুও অদম্য সে। দুই হাতের কনুই ও গালের সাহায্যে অংশগ্রহণ করেন বৃহত্তর রংপুর কিন্ডার গার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তি পরীক্ষায়। জন্মগতভাবেই প্রতিবন্ধী এই শিশু শিক্ষার্থীর মাকফেরাতুন নুর মনি (১১)।

রবিবার সকালে রংপুরের পীরগাছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে দেখা মেলে মেধাবী এই শিক্ষার্থী নুর মনি’র। অন্য পরীক্ষার্থীদের মতোই স্বাভাবিকভাবে লিখেছে সে। মনি দেউতি আইডিয়াল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে উপজেলার দেউতি (বানিয়ার ভিটা) গ্রামের কৃষক জাকিউল আহমেদ ও ফাতেমা বেগম দম্পতির মেয়ে। দুই বোনের মধ্যে ছোট মনি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতেও ভাল রেজাল্ট করেছে।

নুর মনি জানান, ‘অন্যদের মতো লিখতে না পারায় কষ্ট হয় তার। তবুও সে তার সাধ্যমতো চেষ্টা করে খাতায় লিখেছে। কারও বোঝা হয়ে না থেকে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়।’

মনির বাবা জাকিউল আহমেদ বলেন, ‘মনি জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। স্থানীয় কয়েকটি সরকারি স্কুলে ভর্তি করার চেষ্টা করেও তাকে ভর্তি করাতে পারিনি। প্রতিবন্ধী হওয়ায় কোন স্কুলেই তাকে ভর্তি করে নেয়নি। পরে কিন্ডার গার্টেন স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছি। সে একাই চলাফেরা করতে পারলেও তাকে খাওয়ায় দিতে হয়। স্কুলে গেলে তার সহপাঠীরাই তাকে সহযোগিতা করে। সে আরো এগিয়ে যেতে চায়।

দেউতি আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ‘প্রতিবন্ধী হলেও মনির ইচ্ছা শক্তি অনেক বেশী। সে নিয়মিত স্কুলে আসে। পড়াশুনায় খুবই ভাল। তার শ্রেণি রোল নং-৩।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কেন্দ্রে সচিব খোরশেদ কবির বাবুল ও হল সুপার মোরশের্দা বেগম বলেন, ‘প্রতিবন্ধী হিসেবে কিছু সুবিধা দেওয়ার জন্য মনিকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু মনি সে সকল সুবিধা না নিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের মতো পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। এছাড়াও ওই কেন্দ্রে ১০ কিন্ডার গার্টেনের ৪শ ৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য