আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাটঃ গভীর শীতের রাত। কনকনে ঠান্ডায় জুবুথুবু যখন জনপদ। ছিন্নমুল মানুষেরা সামান্য উষ্ঞতার খোঁজে ঘরে যা আছে তা দিয়ে শীত নিবারনের প্রানান্ত ব্যর্থ চেষ্টায় মত্ত। ঠিক সে সময় শীতার্ত ও ছিন্নমুল এই মানুষদের গায়ে পরম মমতায় কম্বল জড়িয়ে দিলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শীতার্তদের মাঝে এ কম্বল বিতরণ করেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রফিকুল ইসলাম, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশেদুল হক প্রধান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল হাসান, কালীগঞ্জ উপজেলা প্রক্ল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পি আই ও) ফেরদৌস আহমেদ প্রমূখ।

শীতে কালীগঞ্জের শীতার্ত ও ছিন্নমুল মানুষের দুর্ভোগ ও কষ্টের কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিস্তার তীরবর্তী মহিষামুড়ি
ছিন্নমুল মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সাথে এতিমখানায়ও কম্বল বিতরণ করা হয়।

প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিদের হাত থেকে কম্বল পেয়ে খুশি হওয়া মানুষগুলো আবেগ জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের এখানে আগে কোনোদিনই কেউ এভাবে শীতবস্ত্র দেয়নি।

উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) মো. রবিউল হাসান জানান, বিত্তবান মানুষ গরম কাপড় কিনে শীত নিবারণ করলেও গরিব-ছিন্নমূল মানুষরা টাকার অভাবে শীতে গরম কাপড় কিনতে পারছেন না। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে দিনমজুর শ্রেণির মানুষ কাজেও যেতে পারছেন না। তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করা ও সঠিক ব্যাক্তিকে সহায়তার লক্ষ্যে রাতে বের হওয়া।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, ছিন্নমুল মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল দেওয়া হচ্ছে। এটা আগামী দিনেও অব্যহত থাকবে।

টানা চার দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই হিমালয়ের পাদদেশের জেলা লালমনিরহাটে। শনিবার ২১ ডিসেম্বর দিনভর কুয়াশার ঘনত্ব কমে গেলেও কয়েকগুন বেড়েছে হিমেল হাওয়া। কুয়াশার ঘনত্ব কমলেও হিমেল হাওয়ায় কাবু হয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের ছিন্নমুল মানুষ। ঠাণ্ডাজনিত রোগে হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর ভিড়। রোগীদের জন্য কম্বল নিয়ে হাসপাতালে হাজির লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন জেলা প্রশাসক। তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। আগুন পোহানোর সময় আহত চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সুমি আক্তারের(১০) খোঁজ খবর নেন ও ৫ হাজার টাকা নগদ অনুদান দেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর। এরপর তিনি স্থানীয় এতিমখানার শিশুদের মাঝেও কম্বল বিতরণ করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ফেরদৌস আলম।

এদিকে তীব্র শীতে খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরেই যাচ্ছে না মানুষ। গরম কাপড়ের দোকানে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে ফুটপাতে কম দামের গরম কাপড় কিনতে ভিড় করছেন ছিন্নমুল মানুষ।

কয়েক দিনের ঘন কুয়াশায় সবজিসহ বোরো বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকদের দাবি। কুয়াশায় বোরো বীজতলা মরে যাওয়ায় আসন্ন বোরো চাষাবাদ নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা।

লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যহত রয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রামে হাট-বাজার-স্টেশন ও ফুটপাতে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমুল মানুষদের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, ছিন্নমুল মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল দেওয়া হচ্ছে। এটা আগামী দিনেও অব্যহত থাকবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য