আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাটঃ হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় কাঁপছে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের মানুষ। গত কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

গত সপ্তাহ জুড়ে এ জেলায় সূর্যের দেখা মিলেনি। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা থেকে ঘন কুয়াশা কেটে গেলেও বাহিরে বইছে হিমেল হাওয়া। তীব্র শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।

এদিকে লালমনিরহাটে ঠান্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শীতজনিত নানা রোগ। গত চারদিনে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াম, হাঁপানি, অ্যাজমা, হৃদরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলার পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে শিশুসহ ৫০ জন।

শীতে লালমনিরহাটে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে ১৩টি নদ-নদী তীরবর্তী ৬৩টি চরের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষসহ নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা। গোবাদিপশুও রেহাই পাচ্ছে না শীতের প্রকোপ থেকে।

শনিবার সকালে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সাধুর বাজার, নিজ গড্ডিমারী, তালেবমোড়, দোয়ানী ও ছয়আনী এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, এলাকার খেটে খাওয়া মানুষরা কাজকর্ম না পেয়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

এদিকে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ কাজকর্ম না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। শীতে তিস্তা পারের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

রেল স্টেশনসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানকারী ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পোহাচ্ছে। শীতার্ত মানুষগুলো এক টুকরো গরম কাপড়ের জন্য তাকিয়ে আছেন সমাজের বিত্তবানদের দিকে।

তিস্তার চরের ছয়আনী গ্রামের আমিনুল ইসলাম বলেন, তিস্তার চরে বাস করি, এখন পর্যন্ত সরকারি একটা কম্বল পাইনি। দুইদিন থেকে কাজে বের হতে পারি নাই, তাই পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. আতিয়ার রহমান বলেন, তিস্তা পারের বেশিরভাগ মানুষ এই শীতে কষ্টে আছে। শীতবস্ত্র চেয়ে উপজেলা পর্যায়ে আবেদন করেছি।

লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কাসেম আলী জানান, শীতজনিত রোগে আক্রন্ত হয়ে পাঁচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, শীতার্ত মানুষের জন্য প্রায় ২৮ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শীতবস্ত্রের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। এসব শীতবস্ত্র এলে তা দ্রুত বিতরণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য