সামনে পা ছড়িয়ে বসে আছে ছোট্ট মেয়ে আর মা বা দিদিমা ভালো করে রগড়ে রগড়ে তেল মাখিয়ে দিচ্ছেন সারা মাথায় আর চুলে। ছোটবেলার এমন একটা স্মৃতি হয়তো অনেকেরই আছে। তখন হয়তো পছন্দ হত না, কিন্তু চুল স্বাস্থ্যবান মজবুত করে তুলতে ওই তেল মাসাজের কোনও জুড়ি নেই। প্রতিদিন ধুলোময়লা, দূষণের কারণে চুলের যে ক্ষতি হয়, তা পূরণ করে সুস্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনে অয়েল মাসাজ। আর ঠাকুরমা-দিদিমাদের কাছে এমন কিছু টোটকা থাকত, যা চুল আর ত্বক, দুইই ঝলমলিয়ে তুলতে অব্যর্থ কাজ করত। এখন ব্যস্ততার যুগে আয়েস করে নিয়মিত তেল মালিশ করার মতো সময় না থাকলেও পুরোনো সেই সব টোটকাগুলো কিন্তু আজও সমান কাজের! জেনে নিন তেমনই কিছু দুর্দান্ত টোটকা।

সুস্থ স্ক্যাল্পের রহস্য লুকিয়ে আমলা তেলে
ঝলমলে, মজবুত চুলের জন্য দরকার সুস্বাস্থ্যে ভরপুর স্ক্যাল্প। আমলকি বা আমলার তেল খুসকি কমায়, চুলের গোড়ায় জমে থাকা তেলময়লাও সরিয়ে দিতে পারে। আমলার তেল স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, ফলে পুষ্টি চুলের গোড়ায় পৌঁছে যেতে পারে, এবং চুলের বাড়বৃদ্ধি খুব ভালো হয়। চুল ভেঙে ঝরে যাওয়া আটকাতেও আমলা তেল খুব কাজের। সপ্তাহে একদিন চুলের গোড়ায় ভালো করে আমলা তেল মাখুন।

ঘুমের আগে চুল আঁচড়ানো চাই
যত ক্লান্তই থাকুন, ঘুমোতে যাওয়ার আগে বড়ো দাঁড়ার চিরুনি দিয়ে ভালো করে চুল আঁচড়ে নিন। তাতে চুল জটমুক্ত থাকবে, চুলের গোড়ায় জমে থাকা তেলও সারা চুলে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়বে। চুল কোমল রাখতে নিয়মিত চুল আঁচড়ানো খুব দরকার।

খুসকি কমাতে ভরসা থাক মেথিতে
সারাবছর খুসকি ভোগাচ্ছে? বেছে নিন মেথি। নিয়মিত মেথির তেল মাখলে খুসকি তো কমবেই, সঙ্গে চুল পড়াও বন্ধ হবে, আর চুলের টেক্সচারও ধীরে ধীরে ভালো হতে শুরু করবে।

রান্নাঘরের মালমশলায় বাজিমাত
টাটকা, প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি ঘরোয়া টোটকা এখনও সমান কাজের। ভিনিগার, দুধ, লেবুর রস, অ্যালো ভেরা, ঘিয়ের মতো সাধারণ রান্নাঘরের উপাদান দিয়ে বানিয়ে নিন হেয়ার মাস্ক আর চুলের যাবতীয় সমস্যা থেকে দূরে থাকুন।

অলিভ অয়েলের জাদু
সুস্থ, মজবুত চুলের জন্য মাথায় নিয়মিত অলিভ অয়েল মাখুন। তেল মাখার পরে গরমজলে ভেজানো তোয়ালে বা শাওয়ার ক্যাপে চুল জড়িয়ে রাখলে তেলের পুষ্টি চুলের গভীরে ঢুকে যাবে। কোমল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। তাতে চুল মজবুত থাকবে, চকচকেও হয়ে উঠবে।
সুত্রঃ ফেমিনা

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য