দেশের উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকা নীলফামারীর চিলাহাটি, ভারতের হলদিবাড়ি, দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি সরাসরি রেলযোগাযোগ স্থাপনে দ্রুত গতিতে চলছে রেলপথ নির্মাণ কাজ। এ রেলযোগাযোগ চালু হলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও মোংলা বন্দর থেকে মালামাল পরিবহন করার সুযোগ পাবে ওই দেশগুলো। আশা করা যাচ্ছে, ২০২০ সালের জুলাই মাস নাগাদ চালু হতে চলেছে এই রেলপথ।

রেলওয়ের বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম জানান, ‘প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। যা প্যাকেজ মূল্যে প্রকল্পটির কাজ চলছে ৬৮ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার টাকায়।’

তিনি আরও জানান, চিলাহাটি থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার এবং ২ দশমিক ৬৩৬ কিলোমিটার লুপ লাইনসহ মোট ৯ দশমিক ৩৬০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারত ইতিমধ্যে প্রায় ৪২ কোটি রুপি খরচ করে হলদিবাড়ি স্টেশনে দুটি নতুন প্লাটফর্ম, টিকেট কাউন্টার, প্রতিক্ষালয় এবং রেল কর্মচারীদের জন্য অফিস তৈরি করেছে।

এদিকে বাংলাদেশের অংশে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার রেলপথে ৭টি ব্রিজ নির্মাণের কাজ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই শেষ করা হবে। এরপর বসানো হবে ব্রডগেজ লাইন। ইতিমধ্যে লাইনগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করে চিলাহাটিতে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান শিহাব জানান, ‘বাংলাদেশ অংশে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ ভাগ কাজ এগিয়েছে।’

নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ঢাকা-নীলফামারী চিলাহাটি হয়ে যদি যাত্রীবাহী ট্রেন চলে, তাহলে ট্রেনে ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড় বাড়বে। বর্তমানে ঢাকা-কোলকাতা, খুলনা-কোলকাতা রুটে চলা ট্রেনের চেয়েও এই রুটে যাত্রী বেশি থাকবে। এতে সরকারের রাজস্ব খাতে আয়ও বেড়ে যাবে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে, ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় রেলপথের বিষয়ে একটি চুক্তি হয়। সেই চুক্তির ভিত্তিতে ভারতীয় অংশে কাজ শুরু হলেও বাংলাদেশ অংশের একটু দেরিতে কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চিলাহাটি স্টেশন এলাকায় এই কাজের উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতে যেমন রেল চলাচলে সুবিধা পাবে, তেমনি ভারতের ভেতর দিয়ে শিলিগুড়ির সঙ্গে রেল যোগাযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নেপাল ও ভুটান এই রেলপথে মালামাল পরিবহন করতে পারবে। ফলে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও আমদানি-রফতানি ও বাণিজ্য সম্পর্ক সহজ হবে বাংলাদেশের।

চিলাহাটি বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবাইয়াত হোসেন ও সংস্কৃতিকর্মী মাহাবুবুল আলম মাহাবুব জানান, ‘এক সময় কলকাতা থেকে দার্জিলিংগামী অনেক ট্রেন এই পথে চলতো। আবারও এই পথে রেল যোগাযোগ চালু হওয়া আমাদের জন্য সুখবর।

রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম জানান, ‘ভারতীয় রেল ও বাংলাদেশের রেলের মধ্যে কী ধরনের ট্রাফিক হবে, সেটা নিয়ে পরে আলোচনা করা হবে। তবে নতুন বছরের জুলাইয়ে এ পথ দিয়ে রেল চলাচল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য