দিনাজপুর সংবাদাতাঃ মুক্তিযোদ্ধা-জনতার উত্থাল আনন্দ আর স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিদায়ের মুখরিত শ্লোগানে গতকাল ১৮ ডিসেম্বর দিনাজপুরে পালিত হলো জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস।

মুক্তিযোদ্ধা, জনতার শপথ হলো ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম হানির বিনিময়ে অর্জিত লাল সবুজের পতাকা অক্ষুন্ন রাখতে প্রস্তুত রয়েছে বাংলার মানুষ। সংধিান প্রণয়ন কমিটির সদস্য মুজিব নগর সরকারের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোন ১ এর চেয়ারম্যান তৎকালীন এমপিএ আওয়ামী লীগ নেতা এম.আব্দুর রহিম ১৯৭১ সালে ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সামরিক গার্ড অব অর্নার প্রদান করেন মিত্র বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার ফরিদ ভাট্টি ও কর্ণেল শমসের সিং। এম.আব্দুর রহিমের স্মৃতিকে ধারণ করে ১৮ ডিসেম্বর বুধবার এম.আব্দুর রহিম সমাজ কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা কেন্দ্রের আয়োজনে দিনাজপুরে ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন দিবস পালন করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে ‘‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’’ জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

এ সময় সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সৈয়দ মোকাদ্দেস হোসেন বাবলুর নেতৃত্বে বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধার একটি চৌকস দল জাতীয় পতাকাকে সালাম জানান। এরপর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এম.আব্দুর রহিমের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানান সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড.আব্দুল লতিফ, মুক্তিযোদ্ধা ফরিদুল ইসলাম, সফিকুল হক ছুটু, মহসিন আলী প্রধান, আকবর আলী শাহসহ মুক্তিযোদ্ধা ও হাজার হাজার জনতাসহ এম.আব্দুর রহিম সমাজ কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা কেন্দ্রের সভাপতি এ্যাড.আজিজুল ইসলাম জুগলু, সাধারন সম্পাদক চিত্ত ঘোষ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন আরা জোৎনা, বিএমএ’র সাধারন সম্পাদক ডা. বি.কে.বোস, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরুপ কুমার বকশী বাচ্চু, দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হোসেন, কলেজিয়েট হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুল বাসার, মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ফজলে রাব্বী, শহর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খালেকুজ্জামান রাজু, সাধারন সম্পাদক খালেকুজ্জামান রাজুসহ দিনাজপুর কেবিএম কলেজ, আদর্শ মহাবিদ্যালয়, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন, সদর উপজেলা পরিষদ, দিনাজপুর এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ, হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, জেলা ও শহর মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ ও যুব-ছাত্র ছাত্রীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ। সত্য ঘোষের নেতৃত্বে উদীচির শিল্পীদের সংগীতের মধ্য দিয়ে পতাকা উত্তোলন দিবসের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়। পতাকা উত্তোলনের পর মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার উত্থাল ও বিজয়ের আনন্দের এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে।

এরপর দিনাজপুর ইনস্টিটিউটে এম.আব্দুর রহিম সমাজকল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা কেন্দ্রের সভাপতি এ্যাড.আজিজুল ইসলাম জুগলুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, এম.আব্দুর রহিমের সততা, নীতি, আর্দশ, রাজনৈতিক বৈশিষ্ঠ্য বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনুস্মরনীয় অনুকরণীয়। বক্তারা বলেন, প্রয়াত পিতা এম আব্দুর রহিমের মত হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছে এবং জনগনের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গিত করেছে।

উলে¬খ্য, এম.আব্দুর রহিম পশ্চিম জোন-১ এর জোনাল চেয়ারম্যান ছিলেন। তার অধীনে ১১২টি রিলিফ ক্যাম্প, ১২টি যুব অর্ভ্যথনা শিবির, ৬টি মুক্তিযোদ্ধ ক্যাম্পসহ ১টি মুক্তিযোদ্ধা বাছাই ক্যাম্প ছিল। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় অঞ্চল পুর্নগঠনে আত্মনিয়োগ করেন এবং ত্রান ও পূর্নবাসন কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। মরহুম এম.আব্দুর রহিম যোগ্য পিতা হিসেবে যোগ্য সন্তান রেখে গেছেন জৈষ্ঠ্য পুত্র বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, তার ৪ কন্যার মধ্যে ২ কন্যা চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য