৭ মাস বয়সের শিশু রবকত আলী। গরীব বাবা মায়ের আদরের ছোট সন্তান। জন্মের পর তাকে নিয়ে কেবল মাত্র স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন দিনমজুর বাবা-মা। দুই সন্তানের পর বরকতকেও শত কষ্টের মাঝে বড় করে তুলবেন। কিন্ত হঠাতই সেই স্বপ্নে বাধ সাঁজে হাইড্রোক্যাফালাস বা মস্তিষ্কে পানি জমাট বাঁধা নামে একটি রোগ। জন্মের তিন মাস পর সেই রোগে আক্রান্ত্র হয় বরকত। যেন ফুল হয়ে ওঠার আগেই কুড়িতে ঝড়ে পরতে যাচ্ছে শিশু বরকত।

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্য সিংগীমারী গ্রামের দিনমজুর রশিদুল ইসলাম ও গৃহিনী আয়শা বেগম দম্পতির সন্তান বরকত। দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে বরকত সবার ছোট। তাই সে বাবা মায়ের খুবই আদরের সন্তান।

বরকতের বাবা রশিদুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, জন্মের তিন মাস পর্যন্ত কোন সমস্যা ছিলো না। সব কিছুই ঠিক ঠাক ছিলো। তবে তিন মাস পর দেখা যায় ধীরে ধীরে তার মাথা বড় হতে থাকে, মাথা তুলতে পারে না, উপরের দিকে তাকাতেও পারে না শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে। এছাড়া কোন কারন ছাড়াই খুব কান্না কাটি করে আর খেতে চায় না। মাঝে মাঝে খিঁচুনী দেয়। তার এসব দেখে ঘাবড়ে যাই। কি করবো কিছু বুঝতে না পেরে দিশে হারা হয়ে পরি। পরে তাকে নিয়ে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে যাই। ডাক্তার তাকে দেখার পর উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে বরে রংপুরে নিয়ে ভালো ডাক্তার দেখাতে বলেন। রংপুরে নিয়ে ডাক্তার নিউরো সার্জারী বিভাগের রাজ কুমার রায়কে দেখাই। তিনি পরিক্ষা নিরিক্ষা করাতে বলে। সেই রিপোর্ট দেখে তিনি বলেন তার মস্তিষ্কে পানি জমেছে। অপারেশন করাতে হবে। তার জন্য প্রায় ২ লক্ষ্য টাকা লাগবে।

তিনি আরও বলেন, বাবা আমি গরিব মানুষ এত টাকা কই পাবো। কয়েক শতক বাড়ি ভিটা ছাড়া কিছুই নাই। দিনমজুর করে যা পাই তা দিয়ে কোন রকম সংসারের জনের তিন বেলা খাবার যোটাই। বাড়ি ভিটা বিক্রি করলে সামান্য টাকা হবে। তারপর বাকি টাকা কিভাবে যোগাড় করবো বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রশিদুল।

কান্না জড়িত কন্ঠে রশিদুল বলেন, আমার যতই কষ্ট হোক আমি আমার সন্তানকে সুস্থ্য করে তুলবো। আর সবার কাছে একটাই অনুরোধ আমার সন্তানকে বাচাতে আপনারা এগিয়ে আসুন।

এ বিষেয় বরকতের চিকিৎসক নিউরো সার্জারী বিভাগের রাজ কুমার রায়কে জানান, শিশু বরকতের মস্তিকে পানি জমে গেছে। তাই তার মাথা ধীরে ধীরে ফুলে গেছে। তবে অপারেশন করানো গেলে সে সুস্থ্য হয়ে ওঠবে।

সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করুন। মোবাইল: ০১৭৩৭৯৩৩৪৪১।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য