বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টিকারী মুসলিম ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য একটি সম্মেলনে যোগ দিতে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জড়ো হয়েছেন ২০টি মুসলিম দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা।

মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বুধবার রাতে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে আয়োজিত এক নৈশভোজের মাধ্যমে চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কুয়ালামপুর সম্মেলনের জন্য কোনো এজেন্ডা ঘোষণা করা না হলেও এখানে মধ্যপ্রাচ্য ও কাশ্মীরের পুরনো বিরোধগুলো, সিরিয়া ও ইয়েমেনের যুদ্ধ, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের অবস্থা এবং শিংজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীনের শিবির পরিচালনা করার মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ইসলামভীতি ছড়িয়ে পড়া রোধকল্পে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী মুসলিম ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও ইসলামের জন্মভূমি সৌদি আরব এ সম্মেলনে যোগ না দিয়ে সম্মেলন আয়োজনের নিন্দা করেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তানও কুয়ালালামপুর সম্মেলনে যোগ দিবে না বলে জানিয়েছে। এতে মুসলিম বিশ্বে বিদ্যমান বিভাজন প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকর।

বিশ্বের অন্যতম স্পষ্টবাদী দুই নেতা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান সম্মেলনে তাদের মতামত ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখবেন।

এ সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তাদের মধ্যে মাহাথির ও এরদোয়ানের পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও ছিলেন। কিন্তু একেবারে শেষ পর্যায়ে সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবের চাপে সম্মেলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ইমরান। তবে এ কথা অস্বীকার করেছে পাকিস্তান।

বর্তমানে সৌদি আরবের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে, মধ্যপ্রাচ্যের এমন দুটি দেশের প্রেসিডেন্ট, ইরানের হাসান রুহানি ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামিদ আল থানি সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন।

বিশ্বের ১৭৫ কোটি মুসলিমের ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য এই সম্মেলন সঠিক ফোরাম নয় বলে দাবি করেছে সৌদি আরব। এসব ইস্যু ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মাধ্যমে আলোচিত হওয়া ‍উচিত, মঙ্গলবার এক টেলিফোন কলে সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ মাহাথিরকে এমনটি বলেছেন বলে জানিয়েছে সৌদির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ।

যদিও কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান, কাতার ও তুরস্কের কারণে কূটনৈতিকভাবে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ার শঙ্কা থেকেই সৌদি আরব এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সম্মেলন নিয়ে সৌদি আরব ‘খুব উদ্বিগ্ন’ হয়ে আছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির একটি সূত্র।

বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।

আগামী শনিবার সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য