দিনাজপুর সংবাদাতাঃ যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সোমবার দিনাজপুরের সর্ববৃহৎ বিদ্যাপিঠ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস-২০১৯ পালিত হয়েছে। দিবসটি পালনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ হতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এসব কর্মসূচীর মধ্যে ছিল, বিজয় র‌্যালি, পুষ্পস্তবক অর্পণ, খেলাধুলা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি।

সোমবার (১৬ ডিসেম্ব) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম’র নেতৃত্বে বিজয় র‌্যালি ক্যাম্পাস ও এর সামনের মহাসড়ক প্রদক্ষিন করে শহীদ মিনার বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ, কর্মচারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পুষ্পমাল্য অর্পন শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। তাঁর বাণীতে বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রভাতী সূর্যের আলোয় ঝলমলিয়ে উঠেছিল বাংলার রক্তস্নাত শিশির ভেজা মাটি, অবসান হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাড়ে তেইশ বছরের নির্বিচার শোষণ, বঞ্চনা আর নির্যাতনের কালো অধ্যায়। ত্রিশ লাখ শহীদের বুকের রক্ত, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ও অগণিত মানুষের সীমাহীন দুঃখ-দুর্ভোগের বিনিময়ে আমরা বিজয় অর্জন করি। নয় মাসের জঠর-যন্ত্রণা শেষে এদিন জন্ম নেয় একটি নতুন দেশ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। প্রায় ৯২ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যের ঐতিহাসিক রোসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সূচিত হয়েছিল এই মাহেন্দ্রক্ষণ।

বাণীতে আরও বলা হয়, ৪৯ বছর পর আমরা যখন আরেকটি বিজয় দিবস উদযাপন করছি, তখন জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অন্য একটি বাংলাদেশ আমরা লক্ষ্য করছি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, পদ্মা সেতু, পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সবকিছুতেই আমাদের অগ্রগতি। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, ২০২১ সালের পূর্বেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে পরিনত হবে। পরিশেষে, হাবিপ্রবি পরিবারের সবাইকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথা দেশের উন্নয়নে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে পালনের আহ্বান জানান।

এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্র-ছাত্রী, বিদেশী শিক্ষার্থী ও কর্মচারিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা এবং শিশুদের জন্য চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও সোমবার বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য