দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসি’র আওতায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল হেড ওয়েল ডিপো জ্বালানি তেল শুন্য হয়ে পড়েছে। এ কারণে এই ওয়েল ডিপো থেকে রবিবার সারাদিন পেট্রোল ও কেরোসিন কিছু সংখ্যক এজেন্ট এর নিকট সরবরাহ করা হলেও ডিজেল না থাকায় কাউকে দেয়া সম্ভব হয়নি। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এ তিন কোম্পানীর পার্বতীপুর রেল হেড ওয়েল ডিপোর সংরক্ষনাগারে যে পরিমান জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে তা বিক্রয় অযোগ্য মজুদ বলে ডিপো অফিস সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, তিন কোম্পানীর জ্বালানি তেল চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের পরিমান গড়ে প্রতিদিন ১৮লাখ লিটার। আর রেল হেড ওয়েল ডিপোতে পেট্রোল, কেরোসিন ও ডিজেল সব মিলে মজুদ থাকার কথা দেড় কোটি লিটার। বিক্রি অযোগ্য বা ডেড স্টক জ্বালানি তেলের পরিমান হচ্ছে মেঘনা ওয়েল ডিপো কোম্পানীতে পেট্রোল ১লাখ ৪২ হাজার লিটার, কেরোসিন ৩১ হাজার লিটার ও ডিজেল ৩লাখ ৫৮ হাজার লিটার। যমুনাতে পেট্রোল ১৫ হাজার লিটার, কেরোসিন ১লাখ ৯৭ হাজার লিটার ও ডিজেল ৩লাখ ১৫ হাজার লিটার। পদ্মা ওয়েল ডিপোতে পেট্রোল ১৬ হাজার লিটার, কেরোসিন ৬৪ হাজার লিটার ও ডিজেল ৩লাখ ১২ হাজার লিটার মজুদ আছে।

গত ১২ ডিসেম্বর তিন ডিপো থেকে পেট্রোল ২লাখ ৮হাজর ৫শ লিটার, কেরোসিন ৩৯ হাজর লিটার এবং ডিজেল ১২লাখ ১২হাজর লিটার সরবরাহ করা হয়েছে। এসব জ্বালানি তেল উত্তরের আট জেলার ৬০০ পাম্প, ২০০ এজেন্ট এর কাছে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। জ্বালানি সংকটের কারণে আজ রবিবার পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের অধিকাংশ এজেন্ট তেল সংগ্রহের জন্য বাঘাবাড়ি ঘাট ডিপোতে গেছেন বলে অফিস সূত্রে বলা হয়েছে।

অভিযোগ করা হয়েছে, রেলের অবহেলার কারণে বারংবার তাগিদ দেয়া সত্তেও সময়মত জ্বালানি তেল পার্বতীপুর রেল হেড ওয়েল ডিপোতে সরবরাহ করা হয়নি। অন্যদিকে, পাটকল শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের অনশন ধর্মঘটের কারণে জ্বালানি তেলের এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে । পদ্মা মেঘনা ও যমুনা এই তিন কোম্পানীর ইনচার্জ আজম খান জ্বালানি তেল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, আগামী দুই এক দিনের মধ্যে ডিপোতে তেল এসে পৌছুলে এ সংকট কেটে যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য