নিউ জিল্যান্ডের হোয়াইট আইল্যান্ডের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধারে রোববার দ্বীপটিতে একটি তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হলেও তারা খালি হাতে ফিরে আসে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হোয়াইট আইল্যান্ডের একটি এলাকায় অন্তত একটি মৃতদেহ থাকতে পারে বলে তাদের কাছে থাকা তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছিল, তাই ওই এলাকায় পুলিশের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলের আট সদস্যকে ৭৫ মিনিটের জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মাইক ক্লেমেন্ট গণমাধ্যমকে বলেন, “ওই এলাকায় আর কোনো মৃতদেহ পাইনি আমরা।”

শুক্রবার নিউ জিল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর একটি দল ওই দ্বীপটি থেকে ছয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করার পর নিহতদের শনাক্ত করতে মূলভূখণ্ডে নিয়ে যায়।

বাকি নিখোঁজ দুই ব্যক্তির মৃতদেহ খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ লক্ষ্যে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর ডুবুরিরা হোয়াইট আইল্যান্ডের চারদিকের পানিতে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে তারা।

শনিবার দ্বীপটির চারপাশে তল্লাশিকালে ডুবুরিরা দুষিত পানি ও স্বল্প দৃশ্যমানতার মুখোমুখি হয়েছিলেন।

গত সোমবার হোয়াইট আইল্যান্ড আগ্নেয় দ্বীপের জ্বালামুখ দিয়ে ছাই, বাষ্প ও গ্যাস উদগিরিত হয়। ওই সময় সেখানে ঘুরতে যাওয়া ৪৭ জন পর্যটক হোয়াইট আইল্যান্ডে ছিলেন। এদের ২৪ জন অস্ট্রেলিয়ার, নয় জন যুক্তরাষ্ট্রের, পাঁচ জন নিউ জিল্যান্ডের, চার জন জার্মানির, দুই জন করে চীন ও যুক্তরাজ্যের এবং একজন মালয়েশিয়ার নাগরিক।

এদের পাঁচ জন প্রথমেই নিহত হন। ৩৪ জনকে উদ্ধার করার পর আরও আট জন নিখোঁজ থাকেন। উদ্ধার পাওয়াদের মধ্যে ২৭ জনের দেহের ৭১ শতাংশেরও বেশি পুড়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যেও কয়েকজনের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদের মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। যাদের একজন রোববার অস্ট্রেলিয়ার হাসপাতালে মারা যান।সঙ্কটজনক অবস্থায় আরও ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

প্রাণঘাতী ওই অগ্ন্যুৎপাতের ঠিক এক সপ্তাহ পর ১৬ ডিসেম্বর, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১১ মিনিটে নিউ জিল্যান্ডজুড়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য