ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর পুলিশের গুলিতে আহত এক বিক্ষোভকারী ও ট্যাঙ্কারে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ চালক রবিবার মারা গেছে। এই দুইজনকে নিয়ে বিক্ষোভে আসামে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয় জনে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সময়সীমা আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে গৌহাটি, দিবরুগড় ছাড়াও নাগাল্যান্ড রাজ্যের কয়েকটি স্থানে কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। এদিকে পাকিস্তানের একজন মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘ভারতীয় হিটলার-মুসোলিনি’ আখ্যা দিয়ে চিরবৈরী দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে সম্প্রতি আইন সংশোধন করেছে ভারত। ১২ ডিসেম্বর রাতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরেই আইনে পরিণত হয়েছে বিতর্কিত বিলটি। তারপর থেকেই সহিংসতা বেড়েছে সমগ্র ভারতে।

নাগাল্যান্ডে শনিবার ছয় ঘণ্টার অবরোধের ডাক দেয় নাগা স্টুডেন্ট ফেডারেশন। অবরোধে রাজ্যের স্কুল, কলেজ ও দোকানপাট বন্ধ থাকে। রাস্তায় যান চলাচলও দেখা যায়নি। তবে ওই অবরোধে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত ডিজিপি আরপি কিকন।

গত ৯ ডিসেম্বর বিতর্কিত বিলটি ভারতের লোকসভায় উত্থাপনের পর থেকেই রাজ্যটিতে কারফিউ জারি করা হয়। বিক্ষোভের মুখে কারফিউ জারি করা হয় মেঘালয় রাজ্যের কয়েকটি স্থানেও। রবিবার আসামের রাজধানী গৌহাটির কারফিউ রবিবার সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। দিবরুগড়েও সকাল থেকে আট ঘণ্টা কারফিউ শিথিল করা হয়।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানেও সহিংসতর খবর পাওয়া গেছে। নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও হাওড়া জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। হাওড়ার দোমজুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভের জেরে ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের বেশ কয়েকটি এক্সপ্রেস ও যাত্রীবাহি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এসব এলাকার বহু রেলওয়ে কর্মী জীবনের ভয়ে পালিয়েছে।

পশ্চিম বঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার কৃষ্ণপুর রেল স্টেশনে বেশ কয়েকটি ট্রেনে হামলার ঘটনা ঘটেছে, আগুন দেওয়া হয়েছে বহু বগিতে। একই জেলার লালগোলা ও পার্শ্ববর্তী মালদা জেলার হরিশচন্দ্রপুর স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। বেলডাঙ্গা স্টেশনে রাখা রেলওয়ের সরঞ্জামেও আগুন দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছানোর চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমাদ বলেছেন, ‘এই পদক্ষেপের কারণে দিল্লি-ইসলামাবাদ দূরত্ব আর বাড়তে বাড়তে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে।’ শেখ রশিদ বলেন, ভারতের মুসলমানদের জন্য মোদি সরকার যে সমস্যা তৈরি করছে তাতে তাদের পাশে দাঁড়ানো পাকিস্তানিদের কর্তব্য।

শনিবার লাহোরে এক ভাষণে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী বলেছেন, “যেভাবে ‘ভারতের মুসোলিনি-হিটলার’ মোদি মুসলিমদের জন্য সমস্যা তৈরি করছেন, তাতে ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে বিভেদ বাড়বে। যার ফলে দুই দেশ যুদ্ধের মুখোমুখি হতে পারে।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য