কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলায় গম বীজ সংকট দেখিয়ে চাড়া দামে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে অত্র উপজেলার কৃষককূল। অপর দিকে অতিরিক্ত মুনাফা পাওয়ার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ফরিয়ারা অতিরিক্ত মূল্যে গমবীজ বিক্রি করছে।

গম বীজ সংকট ও অতিরিক্ত ও চড়া দাম পাওয়ার আশায়, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী নকল বীজ সংগ্রহ করে তা দেদারছে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু দিন পূর্বে ২০ কেজি প্যাকেটে যে বীজ পাওয়া যেত ৭২০ থেকে ৭৩০ টাকা। বর্তমানে ১ হাজার টাকা থেকে ১১ শত টাকায় বিক্রি করছে। তাও আবার প্রকৃত বীজ নয়।

ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে মওজুদ করা গম কিনে নিয়ে, নকল প্যাকেট তৈরি করে বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরে জমিনে জানা গেছে, এখনও চর রাজিবপুর উপজেলার ৩০ ভাগ জমি পতিত পড়ে আছে। বীজের অভাবে ক্ষেত বোনা সম্ভব হচ্ছে না।

বন্যার কারণে ওই সকল জমিতে দেরিতে আমন ধান লাগিয়ে ছিল কৃষক। এদিকে প্রান্তিক কৃষক গুলো অর্থের অভাবে বীজ ক্রয় করতে পারেনি। ফলে তাদের উপর আরও বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।

কোদাল কাটি ইউনিয়নের চর সাজাই গ্রামের কৃষক ইজ্জত আলী জানান,বীজের অভাবে গম লাগাতে পারছিনা। কয়েক দিন যাবৎ রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেরার কয়েক হাটে বীজ খুঁজছি পাচ্ছি না।

রাজিবপুরের বালিয়ামারী গ্রামের বর্গা চাষী আমিনুল ইসলাম জানান,আমি ৩ বিঘা জমি বর্গা চাষ করি। টাকার অভাবে বীজ কিনতে দেরি হয়েছে। এখন বীজ কিনতে এসে দেখি ১ হাজার টাকা প্যাকেট চাচ্ছে।তবে বীজ সংকটের বেশ কয়েকটি কারণ দেখিয়েছে বীজ ব্যবসায়ী মো: ফরিদুল ইসলাম। তিনি প্রতিনিধিকে জানান, ৪ জন বীজ ডিলার আমরা চাহিদার চেয়ে বেশি বীজ ক্রয় করেছিলাম এবার। কিন্তু অত্র এলাকার কৃষক এ মৌসুমে আখ ও ভুট্রার আবাদ বাদ দিয়ে যুঁেক পড়েছে গম চাষে। ফলে বীজের উপর চাপ পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, পাশ্ববর্তী সানন্দ বাড়ি ও কর্তিমারী বাজার থেকে ৯শত টাকা প্যাকেট বীজ ক্রয় করেছি। যাতায়াত ও পকেট খরচ সহ প্রায় সাড়ে ৯শত টাকা পড়েছে। যদি ১ হাজার টাকা বিক্রি না করি তাহলে লোকসান যাবে।

এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান,এবার ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তা গত বছর ছিল ৭২০ হেক্টর । যার বীজের দরকার ছিল ৯০ মে.টন। সে হিসেবেও এ বার চর রাজিবপুর উপজেলায় বিএডিসি থেকে ৯০ মে.টন বীজ আনা হয়েছিল। এ ছাড়া দেশীয় ও কোম্পানীর বীজও ছিল।

যেহেতু ১১শত ৯০ হেক্টর জমিতে গমের বেশি চাষ করা হচ্ছে,সেহেতু বীজের সংকট হয়েছে। অতিরিক্তি ও চড়া মূল্যের ব্যাপারে উক্ত কর্মকর্তা জানান,যেহেতু বিএডিসির বীজ শেষ হয়েছে । সে জন্য কোম্পানী বা ব্যক্তিগত বীজ বিক্রির ব্যাপারে তাদের কোন হস্তক্ষেপ নেই। এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান জানান,আমি এ ব্যাপারে দেখে ব্যবস্থা নিব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য