দিনাজপুর সংবাদাতাঃ জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নদী খনন প্রকল্পের কাজে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপর দিয়ে নদী খনন করার অভিযোগে দিনাজপুর সহকারী জজ আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।

আদালত সূত্্ের জানা যায়, মামলায় চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন বাদীরা। বাদীরা হচ্ছেন, উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মোগড়পাড়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দীনের ছেলে দুদু মিয়া মামলা নং-৫৬/১৯। মৃত নয়া মিয়ার ছেলে হাজী আঃ মালেক মামলা নং-৬২/১৯। মৃত সাহেব আলীর ছেলে শাহাজুল ইসলাম মামলা নং-৬৮/১৯। মৃত ইছাহাক আলীর ছেলে হাজী আবুল কালাম মামলা নং-৬৯/১৯। মৃত এমাজ আলীর ছেলে আশরাফ আলী মামলা নং-৭৬/১৯। ও মৃত পোচার উদ্দীনের ছেলে ফজলুল হক মামলা নং-৭৮/১৯। মামলায় প্রতিপক্ষ করা হয়েছে নদী খনন প্রকল্পের ঠিকাদার, জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী,উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ইউ,পি চেয়ারম্যানকে।

উল্লেখ্য, দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের পার্বতীপুর নামক স্থান হতে নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মোগড়পাড়া পর্যন্ত ১৪ কিঃ মিঃ মাইলা নদী খননের কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

ওই নদী খনন কালে ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর দিয়ে নদী খনন করা হচ্ছে। এ ভাবে অনেকের অনেক জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, ওই সব জায়গার কাগজ পত্র, হাল নাগাদ দখল পর্চা ও খাজনা খারিজ রয়েছে। তাদের ফসলি জমি নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ব্যক্তি মালিকানা জমিতে নদী খনন করা হচ্ছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাহমুদপুর ইউনিয়নের ইউ,পি চেয়ারম্যান রহিম বাদশা ঘটনাস্থলে যান এবং নদী খনন কাজের সাথে নিয়োজিতদের ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর দিয়ে নদী খনন না করার জন্য আহবান জানান। তিনি বলেন, নদী খননের জন্য যে দিক দিয়ে নকশা রয়েছে সেদিক দিয়ে খনন করেন তাতে এলাকার মানুষের সহযোগিতা থাকবে।

হলাইজানা(তেলিপাড়া) গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে আঃ মজিদের প্রায় ৫ বিঘা জমির উপর দিয়ে নদী খনন করে নিয়ে যাওয়ার কারনে লোকটি হতাশ হয়ে ষ্ট্রোক করে গত বুধবার রংপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আঃ রহমান জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা মোতাবেক নদী খনন করে যাওয়া হচ্ছে।

তবে তিনি সে নকশা দেখাতে পারেন নাই ইউ,পি চেয়ারম্যান সহ উপস্থিত জনতা ও সাংবাদিকদের। ভ’ক্তভোগীরা জানান, নদী খননের কারনে ফসলী জমি নষ্ট হওয়ায় ওই এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মন ধান উৎপাদন কমে যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রৌকশলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে তার অফিসে সাক্ষাত করতে বলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য