ভারতের ‘মুসলিমবিরোধী’ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের (সিএবি) তীব্র সমালোচনা করে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সে দেশের কয়েকজন সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (আইএএস)। বিতর্কিত ওই বিলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দেশটির লোকসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর এর বিরুদ্ধে ‘অহিংস গণ-আইন অমান্য’ করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে ৩১১-৮০ ভোটে লোকসভার অনুমোদন পায় ‘দ্য সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্টমেন্ট) বিল, ২০১৯’ শীর্ষক বিতর্কিত বিল।অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে লোকসভায় এটি উত্থাপন করে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে বিলটিকে ‘মুসলিমবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বুধবার এটি রাজ্যসভায় উত্থাপন করার কথা রয়েছে।

অ্যাক্টিভিস্ট ও সাবেক আইএএস কর্মকর্তা হর্ষ মন্দার বলেছেন, ‘বিলটি পার্লামেন্টে পাস হলে আমি মুসলিম হওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন করবো। তারপর এনআরসির জন্য কোনও নথি জমা দেবো না। নথিবিহীন মুসলিমদের যে শাস্তি দেওয়া হবে, (যেমন ডিটেনসন ক্যাম্পে পাঠানো) নিজের জন্য আমি সেই শাস্তির দাবি তুলবো। একইসঙ্গে নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের মতো শাস্তি চাইবো।’

একই রকমের ঘোষণা দিয়েছেন সদ্য আইএএস-এর চাকরি ছেড়ে দেওয়া শশীকান্ত সেন্থিল-ও। তিনি এনআরসি হলে কোনও নথি জমা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ‘আমি নাগরিক নই বলে ঘোষণা দিয়ে ডিটেনশন সেন্টারে যাবো।’

লেখক টনি জোসেফ বলেছেন, ‘নাগরিকত্ব প্রমাণে নথি জমা দেওয়ার বিষয়টিকে অনৈতিক উল্লেখ করে আমি তা প্রত্যাখ্যান করবো। আমার [মুসলিম] ভাইবোনদের বঞ্চিত করা হবে, তার নিষ্ক্রিয় দর্শক হওয়ার চেয়ে বরং তাদের পাশে দাঁড়াবো।’

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অহিংস গণ-আইন অমান্য আন্দোলনের শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাক্টিভিস্টরা। তারা টুইটারে #সিএবিএনআরসিসত্যগ্রাহ ও #নোটুসিএবিএআরসি নামে হ্যাশট্যাগ চালু করেছেন। এতে ভারতীয়দের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য নথি জমা না দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সেন্থিলের মতোই কাশ্মিরের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর আইএএস কর্মকর্তা হিসেবে পদত্যাগ করেছিলেন কান্নন গোপীনাথন। মোদি সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ও এনআরসি-র বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘বিলটা অমানবিক, অসাংবিধানিক। সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে মুসলিমদের প্রতিবাদ করার সব অধিকার রয়েছে।’

অনেক সরকারি কর্মকর্তা আবার ‘সত্যাগ্রহ’ ও ‘অহিংস অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক ফিনান্স অ্যান্ড পলিসির অর্থনীতিবিদ লেখা চক্রবর্তী। টুইটারে নিজেকে ‘মুসলিম’ ঘোষণা করে তিনি বলেন ‘আমিও মুসলিম। ভারতেই আমার জন্ম। আমি সুরা ফাতিহা জানি। গায়ত্রী মন্ত্রও জানি। কারণ আমার জন্ম ভারতে।’

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা উমর খালিদও বলেছেন, ‘দেশে সিএবি ও এনআরসি পাস হলেও নথি জমা দেবো না।’ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী করুণা নন্দী বলেন, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ভারতের সংবিধানের ওপর নীতিগত আঘাত। তবে এনআরসি প্রত্যাহিক জীবনে আরও বিপজ্জনক।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য