দিনাজপুর সংবাদাতাঃ “ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ-আসুন এ অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই” এই শো­¬গান নিয়ে আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ,দিনাজপুর জেলা শাখার লিগ্যাল এইড উপ- পরিষদের উদ্যোগে পেশাজীবী নারীদের সাথে মত-বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ে পেশাজীবী নারীদের সাথে মত-বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সহ- সভাপতি মিনতি ঘোষ। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ড.মারুফা বেগম। তিনি বলেন,আজকের নারী তার যোগ্যতা,দক্ষতা ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে সামাজিক,রাজনৈতিক ও অর্থনতিক ক্ষেত্রে যতটা অগ্রসর হয়েছে, সমাজ ও রাষ্ট্র এই অগ্রগতিকে অব্যহত রাখার জন্য সহায়ক ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসছে না। নারীর মানবাধিকার আজকে বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি হয়েছে,নারী অর্জন করেছে অনেক কিছু,কিন্তু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীর মৌলিক পরিবর্তন না হওয়ায় নারীর মানবাধিকার এখনও ভূলুন্ঠিত। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে চলতে হবে আরও অনেক পথ। উক্ত মত-বিনিময় সভায় আরো আলোচনা করেন দিনাজপুর আইনজিবি সমিতির সিনিয়র সদস্য আমিনুল হক পুতুল এ্যাডঃ, নার্সিং ইনষ্ট্রাক্টর বেগম রোকেয়া সিদ্দিকা , নার্সিং কলেজের প্রভাষক ওয়াজেদা বেগম , পুলিশ সদস্য নন্দিতা রাণী সরকার ও আইরিন বেগম , ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী শরিফা বেগম , চাকুরিজীবী রেনু বৈশ্য , উদ্দ্যোক্তা মতিউর রহমান , ছাত্রী খুকী হেমব্রম, নীপা, মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সহ-সভাপতি অর্চনা অধিকারী,সুমিত্রা বেসরা, সহ-সাধারন সম্পাদক মনোয়ারা সানু,লিগ্যাল এইড সম্পাদক জিন্নুরাইন পারু,সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আকতার,আন্দোলন সম্পাদক গৌরী চক্রবর্তী,জেলা শাখার সদস্য রোকসানা বিলকিস,সুফিয়া বেগম, শুক্লা কুন্ডু।

আলোচকেরা বলেন, পেশাজীবী নারীরা তাদের স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে এবং পেশাজীবী হবার কারণে তাদের ব্যক্তিগত জীবনে নানান ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়ে থাকেন আর এই কারণে তারা তাদের কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিজীবনে পিছিয়ে পড়ছেন। একজন মানবসন্তান হিসেবে নারীর মধ্যে যে অন্তর্নিহিত শক্তি ও সম্ভাবনা আছে তার পূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতি সম্ভব। নারীর এই যে উত্থান অগ্রযাত্রা যা কি না সমাজ প্রগতির চাকাকে অগ্রসর করে নিয়ে যাচ্ছে।

মত বিনিময় সভায় অংশগ্রহনকারী কর্মজীবী পেশাজীবী নারীদের সাথে আলোচনায় যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে- সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি,বেসরকারি খাতে চাকরিক্ষেত্রে, ব্যবসা বানিজ্যে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি,কর্মস্থলে নারীর অধিকার,সমান মজুরি ও বেতন,শিক্ষার সকল স্থরে নারীর অধিকার, উন্নতমানে প্রসূতি চিকিৎসা লাভের অধিকার,নারীর সম্পত্তিতে সমান অধিকার,হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন,২০১২ তে বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করাসহ আইনকে পূর্ণাঙ্গ করতে হবে, শারিরিক ও মানসিক হয়রানি ও নিগ্রহ থেকে নারী ও কিশোরীর নিরাপত্তা বিধান করা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য