ভারতে নারীদের বিরুদ্ধে একের পর নৃশংস অপরাধের ঘটনার পরও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নীরব থাকায় তার বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের এক নেতা।

মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘মেইক ইন ইন্ডিয়া’ শ্লোগানকে ব্যঙ্গ করে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া ধীরে ধীরে ‘রেপ ইন ইন্ডিয়া’ হয়ে যাচ্ছে বলে মঙ্গলবার লোকসভার এক অধিবেশনে মন্তব্য করেন কংগ্রেস দলীয় নেতা ও সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরি।

সম্প্রতি ভারতের তেলেঙ্গানায় ২৬ বছর বয়সী এক নারী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণের পর খুন করে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এর কয়েকদিনের মধ্যে উত্তর প্রদেশের উন্নাওয়ে ধর্ষণের শিকার এক তরুণী আদালতে যাওয়ার পথে তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেয় অভিযুক্তরা, পরে হাসপাতালে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়।

এভাবে ভারতে প্রতিদিন শতাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে অভিযোগ করে অধীর চৌধুরি মোদী সরকারের নিষ্ক্রিয়তার জন্য সমালোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সব বিষয়ে কথা বললেও এ বিষয়টি নিয়ে নিশ্চুপ হয়ে আছেন। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ থেকে ভারত আস্তে আস্তে ‘রেপ ইন ইন্ডিয়ার’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।”

ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই বছর ভারতজুড়ে ৩৮ হাজার ৯৪৭টি ধর্ষণের মামলা হয়, অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন ১০৬ দশমিক ৭টি মামলা হয়েছে।

এর আগে সোমবার ভারতীয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মোদীকে আক্রমণ করে বলেছিলেন, “ভারত বিশ্বে ধর্ষণ রাজধানী হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রগুলো প্রশ্ন তুলছে, কেন আমরা মেয়ে-বোনদের রক্ষা করতে পারি না। উত্তরপ্রদেশের একজন বিজেপি বিধায়ক ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার পরও প্রধানমন্ত্রী একটা কথা বলেন না!’’

ঝাড়খণ্ডের এক নির্বাচনী সমাবেশে রাহুল বলেন, “নারী ও কৃষকদেরকে বুলেটের লক্ষ্যস্থল করা হচ্ছে। নির্ভয়ে নারীরা তাদের বাড়ির বাইরে পা রাখতে পারছে না।”

নারী নিরাপত্তা, ধর্ষণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি ধর্ষকদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক এখন ভারতের কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য