দিনাজপুর সংবাদাতাঃ সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও জেলা প্রশাসন দিনাজপুর এর সহযোগিতায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসে দু’দিনব্যাপী তথ্য মেলার সূচনা হয়। অবাধ তথে জনগনের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের মধ্যদিয়ে দু‘দিন ব্যাপী তথ্য মেলার উদ্বোধন করেন দিনাজপুর এর জেলা প্রশাসক জনাব, মোঃ মাহমুদুল আলম।

তথ্য মেলার উদ্বোধনী দিনে তথ্যই শক্তি: জানবো জানাবো দুর্নীতি রুখবো বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত দিনাজপুর ইনষ্টিটিউট মাঠ প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন সরকারি-সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের সেবাদানের নিয়ম-কানুন, সেবার নির্ধারিত ফি, সেবা প্রাপ্তির নিয়ম-কানুন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করাই এই দিবসের পালনের লক্ষ্য।

সনাক সভাপতি প্রফেসর আব্দুল জলিল আহমেদ এর সভাপত্বিতে এবং মেলা উদযাপন উপ-কমিটি‘র আহ্বায়ক মোঃ মোজাফফর আলী মিলন এর শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ হাজেরা হাসান, বিশিষ্ট লিখিকা ও সনাক সদস্য লায়লা চৌধুরী, জনাব মোঃ কাজেম উদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ). সিভিল সার্জন ডা: মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান তথ্য অধিকার আইন এর সফলতা নির্ভর করছে জনগণ এই আইনের আওতায় কিভাবে সেবা গ্রহণ করে তার উপর। বাংলাদেশে তথ্য সংরক্ষণ এবং স্বপ্রণোদিত হয়ে তথ্য জানানোর প্রচলন করতে হবে তাহলেই জনগন উপকৃত হবে।

প্রধান অতিথি‘র বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম জানান, দেশে তথ্য অধিকার আইন পাশ হওয়ায় গণতস্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১০বছরে পূর্বের কথা চিন্তা করলে আমরা অনেক উন্নয়নের দুর এগিয়েছি। তিনি জিও এবং এনজিও সকলের উদ্দেশে জানান সকলেই নিয়ম অনুযায়ী তথ্য প্রদান করবেন। কোন প্রতিষ্ঠানই তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করতে পরাবেনা, সরকার সেবিষয়ে খুবই সজাগ। আইন অনুযায়ী কোন তথ্য দেয়া যাবে সেই তথ্যটিও আমাদের জানা থাকা প্রয়োজন। আমারা তথ্য সমৃদ্ধ হবো এবং দুর্নীতি হতে নিজেকে দূরে রাখবো অন্যকেওক সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করবো তাহলেই এই মেলা স্বার্থক হবে।

আলোচনায় বক্তারা আরও জানান তথ্য আদান প্রদানে জনগনকে আরও অনেক সচেতন হতে হবে। সনাক-টিআইবি সারাদেশে যেভাবে এর ব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের সাথে আমাদের সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে তাহলেই একটি সময় আমরা এর সার্থকতা নিশ্চিত করতে পারবো। আমরা যদি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই তাহলে এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ অবশ্যই ঘটাতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে স্বাভাবিকভাবেই দুর্নীতি কমে আসবে।

মেলায় তথ্য অধিকার আইন হাতে-কলমে শিক্ষাদান করা হয়। আলোচনা সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে ভিডিও চিত্র দেখানো হয়। সর্বশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। মেলায় সরকার- বেসকারি মিলে ৩৬টি স্টল নিজ-নিজ প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিয়ে জনগনকে তথ্য দিয়ে তথ্য সমৃদ্ধ করছে।

আগামী কাল ১০ডিসেম্বর মেলার দ্বিতীয় দিনে সন্ধ্যায় আলোচনা সভা শেষে সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসাপাতাল, বিআরটিএ,আঞ্চলিক পাসপোর্ট ও উপজেলা ভুমি অফিস জনগনের মুখোমুখি হয়ে সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন-উত্তর প্রদান করবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য