রংপুরে নানা আয়োজনে নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়ার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্যদিয়ে আজ সোমবার সকালে তিনদিন ব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে তিন দিনব্যাপী রোকেয়া মেলার উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনের সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, রংপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট ছাফিয়া খানম, বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত ও সংসদ সদস্য আরমা দত্ত । অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন, সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ্ আলম।

এদিকে তিন দিনব্যাপী মেলার অংশ হিসেবে সকাল দশটায় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। আর দুপুরে পায়রাবন্দ জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় রয়েছে নাটিকা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

রোকেয়া দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘নারীদের ঘরে থাকার দিন রোকেয়ার সময়েই শেষ হয়েছে। তাকে অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী সমাজের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। সরকারের সফল উদ্যোগে নারী-পুরুষের বৈষম্য ভেদ করে সকল ক্ষেত্রে সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আজ নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে দেশ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে।’

দিবসটি উপলক্ষে রংপুর মহানগরীসহ জেলার আট উপজেলাতে বিভিন্ন নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে অলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ সচেতনতামূলক নাটিকা প্রদর্শনী, সম্মাননা স্মারক প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ঃ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও বেগম রোকেয়ার অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।

রবিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় শোভাযাত্রার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং খেলার মাঠ প্রাঙ্গণে স্থাপিত বেগম রোকেয়ার অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপাচার্য পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর বিভিন্ন অনুষদ ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, রোকেয়া বই মেলা প্রদর্শনীর উদ্বোবন, তাৎক্ষানিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও রোকেয়ার গল্প অবলম্বনে ক্ষুদ্র নাটিকার আয়োজন করা হয়।

অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও রোকেয়া দিবস উদ্যাপনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে ‘বেগম রোকেয়ার স্বদেশ ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম-উল্লাহ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. আবু কালাম মো. ফরিদ-উল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া প্রমুখ। আলোচনার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য পাঠ করেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন এবং দিবসের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনা।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, বেগম রোকেয়া নারী জাতিসহ পুরো সমাজকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করে গেছেন। তার সকল কর্মকাণ্ড নানা সময়ে দেশে এবং বিদেশেও ব্যাপকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার নামে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বেগম রোকেয়ার স্থায়ী ভাষ্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামুলক রোকেয়া স্টাডিস চালুর উদ্যোগ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, শিক্ষামন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যানের বাণী সম্বলিত বিশেষ ক্রোড়পত্র জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য