পর্যাপ্ত আর্দ্রতার অভাবই চুলের রুক্ষতার প্রধান কারণ। চুলের একেবারে বাইরের স্তর হচ্ছে কিউটিকল যা চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে। চুল পর্যাপ্ত পরিমাণে আর্দ্রতা না পেলে, এই কিউটিকল উন্মুক্ত হয়ে পড়ে যেন বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা গ্রহণ করতে পারে।

বাতাস থেকে পাওয়া অতিরিক্ত ময়েশ্চার চুলে জমা হওয়ায় তা বেশি ফুলে ওঠে এবং রুক্ষ লাগে দেখতে। পাশাপাশি অনবরত আর্দ্রতার এই ঘাটতি ধীরে ধীরে চুল নষ্ট করে দেয় এবং চুল নির্জীব দেখাতে শুরু করে।

সুতরাং রুক্ষতাকে কাবু করতে হলে চুলের আর্দ্রতা সঠিক রাখার পাশাপাশি চুলের পুষ্টির দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। জেনে নিন ঘরোয়া যত্নে কীভাবে চুল করবেন ঝলমলে।

  • ১/৪ কাপ আমন্ড অয়েলের সঙ্গে ১টি কাঁচা ডিম ফেটিয়ে নিন। মিশ্রণটি ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে ৪০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। ভেষজ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করে চুল ধুয়ে নিন।
  • ভিটামিন ই চুলের জন্য খুবই উপকারী। এতে চুলের প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা চুল ঝলমলে রাখে। একভাগ ভিটামিন ই অয়েলের সঙ্গে ৪ ভাগ নারকেল তেল মিশিয়ে এয়ারটাইট কন্টেনারে ভরে রেখে দিন। সপ্তাহে একবার বা দুই বার চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী এই তেল চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ম্যাসাজ করুন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • ১/৪ কাপ মেয়োনেজ, ১/৩ কাপ অলিভ অয়েল এবং চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী একটি বা দুটি ডিম একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। পুরো চুলে এই মিশ্রণ লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখুন। আধঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন। এই মাস্ক শুধু রুক্ষতা দূর করতেই নয়, বরং চুল ঝলমলে করতেও সাহায্য করবে।
  • কন্ডিশনার হিসেবে কলা দারুণ কার্যকরী। একটি পাকা কলার সঙ্গে ২ চা চামচ মধু এবং ১/৩ কাপ নারকেল তেল বা আমন্ড অয়েল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন।
  • চুলের রুক্ষতা দূর করার অন্যতম কার্যকরী উপায় হট অয়েল ম্যাসাজ। চুলের ধরন অনুযায়ী একাধিক তেল মিশিয়ে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত সময় নিয়ে ম্যাসাজ করুন। গরম পানিতে তোয়ালে ডুবিয়ে অতিরিক্ত পানি নিংড়ে তা চুলে জড়িয়ে রাখুন। তোয়ালে ঠাণ্ডা হয়ে গেলে পদ্ধতি আবার রিপিট করুন। আধঘণ্টা পরে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার ব্যবহার করে নিন।

টিপস

  • শ্যাম্পু কেনার সময় তা সালফেটমুক্ত কি না, দেখে নিন। শ্যাম্পুর উপাদানের তালিকায় এসএলএস (সোডিয়াম লরেথ সালফেট, সোডিয়াম লরিল সালফেট বা সোডিয়াম লরিল ইথার সালফেট) জাতীয় কোনও উপাদান থাকলে, তা না কেনাই ভালো।
  • শ্যাম্পু শেষে কন্ডিশনার ব্যবহার জরুরি।
  • প্রতিদিন অন্তত দুইবার ভালো করে চুল আঁচড়ান। এতে চুলের স্বাভাবিক তেল সব অংশে ছড়িয়ে পড়বে। তবে ভেজা চুল আঁচড়াবেন না।
  • সুতির কাপড়ে তৈরি বালিশের কভারের পরিবর্তে সিল্কের কভার ব্যবহার করুন। এতে শোওয়া অবস্থায় চুলে বেশি ঘষাঘষি হবে না।

তথ্য সহায়তা: সানন্দা

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য