আফগানিস্তানের জালালাবাদ শহরে একটি জাপানি বেসামরিক সংস্থার (এনজিও) গাড়িতে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলায় ছয় জন নিহত হয়েছে।

বুধবারের এ হামলায় এনজিওটির প্রধান ড. টেটসু নাকামুরাও নিহত হয়েছেন বলে ঘটনাস্থল নানগারহার প্রদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হামলার পর বন্দুকধারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন নানগারহার প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য সোহরাব কাদেরি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। আফগান তালেবান এ বন্দুক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল না বলে জানিয়েছেন জঙ্গি গোষ্ঠীটির মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ।

পিস জাপান মেডিকেল সার্ভিসেসের প্রধান ড. নাকামুরা আফগানিস্তানের কৃষি ও সেচ প্রকল্প পুনর্গঠনের কাজে যুক্ত ছিলেন বলে কাদেরি জানিয়েছেন।

অক্টোবরে নাকামুরা আফগানিস্তানের সম্মানসূচক নাগরিকত্বও পেয়েছিলেন।

বুধবার সকালে ৭৩ বছর বয়সী নাকামুরা পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নানগারহারের জালালাবাদ শহরে হামলার শিকার হন। বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে কাবুলে নেয়ার চেষ্টাকালে জালালাবাদ বিমানবন্দরেই তার মৃত্যু হয়।

বন্দুকধারীদের হামরায় নাকামুরার সঙ্গে তার তিন দেহরক্ষী, গাড়িচালক ও এক সহকর্মীও নিহত হয়েছে বলে নানগারহার গভর্নরের মুখপাত্র আত্তুল্লাহ খোগানি নিশ্চিত করেছেন।

আফগানিস্তানে এ ধরনের হামলা প্রায়ই দেখা যায়। গত সপ্তাহেও জাতিসংঘের এক গাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে মার্কিন এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন।

অগাস্টের প্রতিদিন দেশটিতে গড়ে ৭৪ জন করে প্রাণ হারিয়েছে বলে বিবিসির এক অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে।

এনজিওর গাড়িতে বন্দুকধারীদের হামলায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আফগানিস্তানের মার্কিন দূতাবাস। দেশটিতে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত আর্নস্ট নরম্যান এ হত্যাকাণ্ডকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।

“ড, নাকামুরা তার সমগ্র জীবন আফগানিস্তানের শান্তি ও অগ্রগতিতে ব্যয় করেছেন,” বলেছেন তিনি।

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির মুখপাত্র সাদিত সিদ্দিকীর টুইটেও ছিল একই সুর।

“তিনি তার সারাজীবন আফগানিস্তানের জনগণের জীবন বদলাতে উৎসর্গ করেছেন। মাতৃভূমি জাপান থেকে এতদূর পাড়ি দিয়ে তিনি আফগানিস্তানে এসেছিলেন। দরিদ্র আফগানদের জন্য তিনি পানীয় জল ও সেচ নিয়ে কাজ করেছেন,” বলেছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য