সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো প্রদেশের একটি স্কুল ভবনে তুরস্কের সামরিক বাহিনীর গোলাবর্ষণে যে ১১ জন নিহত হয়েছে তার মধ্যে আটটি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় ২১ জন আহত হয়েছেন।

ব্রিটেনভিত্তিক কথিত মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস গতকাল এ খবর দিয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি বলছে, তাল রিফাত শহরের একটি স্কুল ভবনে তুর্কি সেনারা গোলাবর্ষণ করলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সংস্থার প্রধান রামি আব্দেল রহমান বলেছেন, সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আফরিন এলাকা থেকে উদ্বাস্তু হওয়া লোকজনই বেশি নিহত হয়েছে। আফরিন শহরটি গত বছর তুরস্কের সেনারা দখল করে নিয়েছিল।

কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাল রিফাত শহরটি তুরস্ক সীমান্ত থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এবং এটি তুর্কি সমর্থিত ফ্রি সিরিয়ান আর্মি বা এফএসএ গেরিলা এবং কথিত পিপলস প্রোটেকশন ইউনিট বা ওয়াইপিজি গেরিলাদের মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
সিরিয়ার ওপর তুর্কি বাহিনীর গোলা বর্ষণ

গত বছর তুরস্ক সরকার সীমান্ত পেরিয়ে তাল রিফাত শহরে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছিল। কুর্দি ওয়াইপিজি গেরিলাদেরকে তুরস্ক সন্ত্রাসী সংগঠন বলে মনে করে এবং পিকেকে গেরিলাদের সঙ্গে ওয়াইপিজি গেরিলাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তুরস্ক সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এসব অভিযানে বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। যদিও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে তবে তুরস্ক অভিযোগ করছে- সীমান্ত থেকে সশস্ত্র কুর্দি গেরিলারা সরে যায় নি। তুর্কি অভিযানকে সিরিয়ার সরকার আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ‌এর কঠোর নিন্দা ও সমালোচনা করে আসছে।

-পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য