মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও: রাস্তায় যেখানে-সেখানে ট্রাক দাঁড় করিয়ে মালামাল লোড-আনলোড, যাত্রীবাহী বাসে যাত্রী উঠা-নামা করানো, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা আর ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌর শহরবাসী।

দিনের বেলায় বেশির ভাগ সময়ই যানজট লেগেই থাকে শহরের বটতলা ও পূর্ব চৌরাস্তায়। সন্ধ্যা নামলেই এর সাথে বাড়তি দুর্ভোগ হিসেবে যোগ হয় দূরপাল্লার কোচগুলি। পৌর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি একাধিকবার বলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।পীরগঞ্জ একটি ১ম শ্রেণির পৌরসভা। কাপড়ের দোকান ছাড়া শহরের বেশির ভাগ দোকান মূল সড়ক ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। আগে জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা কম থাকার কারণে রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচলে তেমন অসুবিধা হত না, কিন্তু সময়ের সাথে বাড়েছে জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা। এতে চাপ বেড়েছে রাস্তায়। তাই চাপ সামাল দিতে রাস্তাঘাট প্রসস্ত করে দুই ধারে সাধারণ মানুষের হাটা চলার জন্য ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে তা দখল করে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। দোকানের মালামাল বিশেষ করে পাইপ, রড, সিমেন্ট, টায়ার, মেশিনসহ নানা জিনিসপত্র রাখা হচ্ছে রাস্তা ঘেঁষে ফুটপাতে।এতে করে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করার স্বাধীনতা হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ ছাড়াও মূল রাস্তাটি দখল করে রাখছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। রাস্তার দুই ধারে সারিবদ্ধ ছাড়াও এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে রাখা হয় ইজিবাইকগুলি। এই ছোট্ট শহরে প্রায় এক হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। সে তুলনায় যাত্রী কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেগুলি দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। তাদের জন্য কোন ষ্ট্যান্ড নেই। নেই বাসষ্ট্যান্ডও। ফলে যাত্রীবাহী মিনিবাস পূর্ব ও পশ্চিম চৌরাস্তায় রাস্তার ওপর থামানো হয়। উঠা-নামা করানো হয় যাত্রী।তা ছাড়াও রাস্তা সংলগ্ন রড সিমেন্টের দোকানের সামনে রাস্তায় হেভি ট্রাক দাঁড় করিয়ে মালামাল লোড-আনলোড করা হয়।

এতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে রাস্তার চলাচল ব্যবস্থা। সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। তাছাড়া রাস্তায় চলমান মাইক্রোবাস, ট্রলি, ট্রাক্টর, থ্রি-হুইলার সহ অন্যান্য যান বাহন তো রয়েছেই। এমনকি সন্ধ্যা নামলেই শহরের পূর্ব চৌরাস্তা, বটতলা ও রেলগেটে ভোগান্তি বাড়ে। এ সময় শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশ্বে দুর পাল্লার কোচগুলি দাঁড় করিয়ে রেখে যাত্রী তোলা হয়। এতে পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। সাধারণ মানুষের চলাচল করার কোন সুযোগই থাকে না।এসব বিষয়ে নজর দেওয়ার জন্য উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি।

এ বিষয়ে পৌর এলাকার বাসিন্দা গোলাম রব্বানী ‘ পিবিএন২৪’ কে বলেন, যেখানে সেখানে গাড়িতে যাত্রী ও মালামাল উঠা নামা করানো এবং বিশৃংখল ইজিবাইকের কারণে সাধারণ মানুষ ঝুকিতে রয়েছেন। শহর জুড়ে যে যান জট, তা নিরসনের কোন উদ্যোগ নেই। বিশেষ করে ফুটপাত দখল মুক্ত হওয়া একান্ত দরকার।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র কশিরুল আলম বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মিনিবাস ও ভারি যানবাহনের ষ্ট্যান্ডের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লেখা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য